মৃধা আলাউদ্দিনের একগুচ্ছ কবিতা

কষ্টের হাঁসগুলো

এখন হাঁসদের প্রচন্ড ইচ্ছে হচ্ছে তারা ভাজা ডিম পারবে। অথচ পৃথিবীর ভয়ে তারা পারছে না ভাজা ডিম পারতে।
কেননা, মানুষরা হয়তো তাদের এ ভাজা ডিমকে গ্রাহ্যই করবে না।
বলবে, এ হাঁসদের আরেক ভÐামি। জাতে ওঠার পাঁয়তারা। যেমনটি কিছুকাল আগে করেছিল গাছদের মধ্যে কেউ কেউÑ সরে গিয়েছিল কোনো কোনো গাছÑ আপেল আমরুজ হিজল তমাল পাইন আর মেপল পাতাও গিয়েছিল সরে।
অথচ, মানুষরা কেবলই চুষে খায় গীবৎ
ধান দূর্বা
জাকাত, জাকাতের অর্থ
জহুরি জাঁদলের জোছনা। নষ্ট হয় নারী নদীÑ নরম শিশুরা
হিরোসিমা থেকে নাগাসাকির বদলে যায় ভ‚মি। স্বাধীনতার সবুজ ভ‚মিÑ ইরান ইরাক কসোভোÑ মিয়ানমারের মুসলমান মানেই অজ¯্র ছিন্নভিন্ন পাপড়ির লাশ।

সবুজ পাখিরাও পারছে না সুখ ও কল্যাণ বয়ে আনতে।

এখন সভ্যতা মানেই গোলাপের বাগানে একটা পাগলা হাতি।
এখন সভ্যতা মানেই রাস্তায় একটা ধর্ষিতা মেয়ে।
এখন সভ্যতা মানেই মানুষরা চুষে খার নারীর হাড় মাংস অ¯ি-মজ্জা…

আর এতে কিছুই হয় না পৃথিবীর। শুধু হাঁসেরাই পারছে না ভাজা ডিম পারতে
এবঙ একদিন হাঁগুলো কষ্টের ভাজা ডিম পারতে পারতে উৎসবমুখর মুরগি হয়ে যাবে।
উজানে বয়ে যাওয়া নদী হয়ে যাবে।

প্রহরের প্রথম রৌদ্র
হে প্রহরের প্রথম রৌদ্র!
আমি তোমার জন্য গড়েছি একটি বড় বাড়ি বারান্দা
যেখানে খাল আছেÑ রাত্রিরে ডেকে যায় ডাহুক।

তুমি প্রাণ-প্রকৃতিরে ভালোবেসেছিলে
এখানে হাঁসেরা সোনার ডিম পারে।

তুমি প্রেমের কথা বলেছিলে
আমি বাতাস কেটে কেটে বাহারি বসন্তে তৈরি করেছি রাস্তাÑ

তুমি সাগর-সমুদ্র চেয়েছিলে
এখানে ছলছল করে রাত্রিরে ধবল জোছনায় পাহাড়ি ঝরনা।

হে রৌদ্র! এখন বলো তুমি কার? পৃথিবী না আমার…

যদিও আমি অল্পই করেছি তোমার জন্য
আমি অল্পই করেছি আমার জন্য।

স্বাধীনতার মূলমন্ত্র পাঠ হবে ফের
আমরা আবারও সাবয়া মুয়াল্লাকা, বৈষ্ণব কবিতা অথবা সাগরের জলরাশির সরল সৌন্দর্যে অবগাহন করতে চাইÑ যেনো পৃথিবী সুদ্ধ হয় একটা শৈবতান্ত্রিক কাপালিক, কালচিটেÑ কৃষ্ণকালো নগ্ন নারীর দৈহিক আনন্দ থেকে…
একদিন আমরা সামেরি, আজর অথবা আর্যদের আমন্ত্রণও প্রত্যাখান করেছিলাম। আমরা প্রত্যাখান করেছিলাম বর্বর-বেহায়া, ষাড়যান্ত্রিক শাদা চামড়া, পর্তুগিজ জলদস্যুদেরওÑ কেননা, বহুদূর পর্যন্ত অগ্রসর হয়ে আমরা আর পালদের মতো সংকুচিত হতে চাইনি; কিš ওদের একটা ধারণা আমরা বুঝি ঈগলের মতো উড়ে উড়ে ক্লান্ত হয়ে ঝরে যাবো বৈশাখী ঝড়ের মতোÑ যেমন ঝরে যায় আমের ডালপালাÑ সঘন রৌদ্দুরে অনেক মুকুল।
আমরা বর্তমান এই বাংলাদেশের একটা ¯িতিশীলতা চাই, ডুবে যেতে চাই ষড়ৈশ^র্য ভক্তিধারার কবিপুরুষÑ সুফি অথবা প্রেম-তত্তে¡র দারুণ দিগন্তে। রৌদ্দুরেÑ আয়নায়…
আমরা নবী-রাসুলদের মতো পৃথিবীর যেখানে যতো সত্য আছে তা খুঁজে পেতে চাই যেনো বখতিয়ার খিলজির অশ^ারোহীর মতো প্রচÐ প্রতাবে জয় করতে পারি এই পীর-মুর্শিদÑ বারো আউলিয়ার বাংলাদেশ এবঙ আমরা আবারও একটা স্বাধীনতার মূলমন্ত্র পাঠ করতে চাইÑ স্বাধীনতার মূলমন্ত্র…

একসাথে ধ্বংস আর বর্ধিষ্ণু গ্রাম

হ্যাঙ্গারে ঝুলে আছে বিশাল টি-শার্ট
বন্দুকে ঝাঁঝরা করা বুক
আর বুকের ভেতরে মাটিতে দেখা যায় অসংখ্য লাশ।

না, এ লাশ নয়; সবুজের পতাকায় মেশানো
মানুষের মুখ পাতায় মোড়ানো হাত-নাক
চোখের অর্ধেক
পা-গোড়ালি
যেনো একটা সবুজ গ্রামের পাশে মরা ধানক্ষেত
কাঁটাতার ধর্ষণ ও রাইফেল… তারপর নদী
এবঙ আরো দূরে বাতাসে মিশে আছে
ভাঙা রেলগাড়ি
রৌদ্দুর
যেনো যুদ্ধ; একসাথে যুদ্ধ আর আমাদের বর্ধিষ্ণু গ্রাম।

সামনের শীতে মানুষ রৌদ্র হবে

মানুষ আর মানুষ থাকবে না
সামনের শীতে সে রৌদ্র হবে
ঝরনা হবে পৃথিবীর অর্ধেক।

২.
একদিন খাটাসও খর্ব হবে
থাকবে না খোয়া ওঠা খাল,
সরে যাবে ঘিচিমিছি, ঘিঞ্জি প্রতারক ঘাস
কাক, কাকের কর্কশ আওয়াজ
পুড়ে যাবে বেহায়া বাতাস, জবড়জং জীবাশ্ম
নষ্ট হওয়া নারী, ছেঁড়া নাও
নৌফেল।

৩.
নায়েগ্রার উত্তাল জলরাশি থেকে উঠে আসবে
আমাদের বারান্দায় রোদ…
সুউচ্চ মিনার থেকে আমরা শুনব আজান
এবং আলো আসবে আমাদের জরাজীর্ণ প্রাসাদে
যেনো পুড়ে যায় বেহায়া বাতাস
জবড়জং জড়ি ও জীবাশ্ম।

৪.
হে নদী! অশ্বারোহী আপেল
গাছের রৌদ্র ছেড়ে দেবো
এবঙ অভিন্ন ভ্রণ, খুলে যাবে খাল
খালের খোল,
খৈয়াম।
যেনো সামনের শীতে, শীত মানুষ রৌদ্র হয়
ঝরনা হয় পৃথিবীর অর্ধেক।

৫.
নায়েগ্রার উত্তাল জলরাশি থেকে উঠে আসবে
আমাদের বারান্দায় রোদ,
আমরা শুনব সুউচ্চ মিনার থেকে আলোর আজান…

প্রজাপতি হয়ে গ্যাছে কোনো কোনো মাছ

নদী আর নারীর মাংস খেয়ে দেখি, আহা
উড়ে যায় শীতের পাখি;
ঘাস-মাটি, হিজল ফুল, ঝরা মেপল পাতা
রাস্তা পড়ে থাকে রাস্তায়…

নদী আর নারীর মাংস খেয়ে দেখি, আহা
সব বসন্তে ভরে আছে ফুল
কৃষ্ণচ‚ড়া-কৃষ্ণচ‚ড়া, নটি-নাইটিংগেল
পাপড়িগুলো ফুল হয়ে মেলে দ্যায় ডানা

নদী আর নারীর মাংস খেয়ে দেখি, আহা
আকাশে ভেঙে পড়া সন্ধ্যার সুর
রাত্রি-রাত্রি, বরফের বইড়ি ছল;
ফুঁ দেই ফেটে যায় আকাশের চাঁদ

নদী আর নারীর মাংস খেয়ে দেখি, আহা
প্রজাপতি হয়ে গ্যাছে কোনো কোনো মাছ
ইলিশ, বেলে, বাইম… সমুদ্র-সাগর
এবঙ আপেলগুলো বদলে যায়

নীল ঢেউ, পাখির গুঞ্জন কাফকার আকাশ
এবঙ হরিণ হয় কোনো কোনো মাছ…

 

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।