মেজর সিনহা হত্যা : ওসি প্রদীপসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

জাহেদুল ইসলাম: কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের গুলিতে নিহত সেনাবাহিনীর মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় ১৫জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে র‌্যাব।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আলোচিত মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাবের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম কক্সবাজার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে চার্জশিট জমা দেন।

এতে ৩০২ ধারার অপরাধে আদালতে জমাকৃতএই অভিযোগপত্রে টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমারসহ ১৫ জন অভিযুক্তের মধ্যে ১৪ জন ইতিমধ্যে কারাগারে রয়েছেন।বাকি একজন পলাতক।

সংশ্লিষ্ট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ফরিদুল আলম সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

কারাগারে থাকা অভিযুক্তরা হলেন- বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, দেহরক্ষী রুবেল শর্মা, টেকনাফ থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, এপিবিএনের এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ, পুলিশের মামলার সাক্ষী টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নিজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন। যারমধ্যে এখনো পলাতক রয়েছেন পুলিশ কনস্টেবল সাগর দেব।

অভিযোগপত্রের বিষয়ে এএসপি মো. খায়রুল আলম বলেন, সিনহা হত্যার মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে টেকনাফ থানাকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। মামলার তদন্তভার দেয়া হয় র‌্যাবকে।তদন্তে র‌্যাব এ ঘটনায় ১৫ জনের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে।এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যগুলো চার্জশিট হিসেবে জমা দেয়া হয়েছে।এছাড়াও সিনহা হত্যার ঘটনায় মাদক ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে করা তিনটি মামলার কোন প্রকার সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানান এই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এই ঘটনায় নয় পুলিশ সদস্যকে আসামি করে তার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে বিচারক তামান্না ফারাহ আদালতে মামলা করেন। এছাড়া উক্ত ঘটনার তদন্তে গত ১ আগস্ট চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে প্রধান করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কতৃক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।গঠিত ওই কমিটি কতৃক ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকতসহ ৬৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পরবর্তীতে ওই তদন্ত প্রতিবেদনে কক্সবাজারের উক্ত চেকপোস্টে অপেশাদার এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বেশকিছু সুপারিশ করেন তারা।এরই ধারাবাহিকতায় প্রশাসনিক সকল তদন্তের পর এখন ফৌজদারি অপরাধের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।