কবিতাশিল্প ও সাহিত্য

মোহাম্মদ আদিল’র ৩টি কবিতা

একটি অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠরত অবস্থায় মোহাম্মদ আদিল। -ফাইল ছবি

কবিতাপ্রেমি পাঠকদের জন্য রাইজিং কক্সে প্রকাশিত হলো মোহাম্মদ আদিল এর ৩ টি কবিতা। চলুন কবিতাগুলো পাঠ করা যাক:

১. একলা ঘরে মা

আমি যখন একলা থাকি
কেউ থাকেনা পাশে
পেলে আসা সুখের দিন
স্বপ্ন হয়ে ভাসে।
কত কষ্ট করে আমি
তোকে করেছি মানুষ
একলা ঘরে রেখে আমায়
ওড়াস কতো ফানুস।
শীতের সময় কষ্ট পেতি
ওরে আমার খোকা
নিজের চাদর তোকে দিয়ে
করেনি তো ধুকা।
শিখিয়ে ছিলাম ভাল ভাল
হরেক রকম বাণী
আমার চেয়ে বউ হলো তোর
সবার চেয়ে দামি।
এত্ত ফ্ল্যাটে একটি রোমে
হয়নি আমার ঠায়
সময়ের পেক্ষাপটে
কাকে দিবো দায়।
ভাবনা গুলো মনের ভেতর
যখন দেয় হানা
তোর স্বভাব এমন হবে
মনে ছিল না জানা।
খোকারে তুই কেমনে করে
রাখলি আমায় দূরে
তোর দেখা না পায় আমি
মনটা ভিষণ পুরে।
কষ্ট করে গড়ে দিয়েছি
শক্ত করে ভীত
কেমনেরে তুই ভুলে গেলি
পেলে আসা তীত।
তোর ঘরে উষ্টি খাবার ও
আমার কপালে নাই
কেমনে করে তোকে ফেলে
রাতের খাবার খাই।
শেষ বয়সে এসে যখন
পায়নি কোন দাম
যোগ বিযোগ হিসাব করে
ফেলেনি তো ঘাম।
সময় এখন এসে গেছে
পিরিয়ে দেয় চাদর
কোটি টাকার চেয়ে দামি
স্নেহ মাখা আদর।

২. গ্রাম

সবুজ ধানের ক্ষেতের পাশে
পাল তুলা সব নাও
মিলেমিশে থাকি মোরা
আমার ছোট গাঁও।
শহরের স্রোত বিভীষিকা
রোদ পুড়ানো জীবন
কেউ কারও খবর নেয় না
হয় না তেমন আপন।
পালকি চড়ে বউ আসবে
নতুন একটি ঘরে
বাপের বাড়ী নাওর যাবার
চোখের পানি ঝরে।
শহরের গাড়ি এত্ত বড়
কালো ধুয়ার জ্যাম
গ্রামে আছে পালকি নৌকা
গরুর গাড়ির ক্যাম।
তোমরা দেখ টকি হাউজ
কিংবা সিনামা হল
শীতের রাতে যাত্রা পালা
বাংলা রুপের বল।
তোমরা খেল দা -চুরি আর
হকিস্টিকের খেলা
এসে দেখ কাবাডি আর
গোল্লাছুটের মেলা।
মোবাইল আর কম্পিউটারের
ভিডিও গেমের যুগ
তবুও আছে ইচিং বিচিং
ওপেন্টি বায়স্কোপ।
আউল বাউল ফকিরি
গান গুলো সব শুনি
লালন -ফকির হাসন রাজার
নাম যে সব গুনি।
একতারাটা হাতে বাউল
কণ্ঠে তুলে গান
নৌকার মাঝি ভাটিয়ালি
খুশির জোয়ার বান।
নানার রকম পশু পাখি
ফসলের মাঠে ঘুরে
কলসি কাকে নব বধু
নদীর ঘাটে ভোরে।
মাটির ঘরে পাতার ছানি
সুখে ভরা ঘর
পাড়া পড়শি থাকি মোরা
হয় না কেউ পর।
দূর আকাশে মেঘের সাথে
মিশে আছে ধনু
বিকেল বেলায় ঘুড়ি উড়ায়
গ্রামের মেয়ে তনু।
পাখিরা সব যাচ্ছে উড়ে
নিজের বাধা নীড়ে
দুষ্ট ছেলে কাদা মাখে
নদীর পাশে বিলে।
তাল গাছে ঐ ঝুলে আছে
বাবু পাখির বাসা
নতুন ফসল ঘরে তুলবে
বুকে কত আশা।

৩. যেমন তেমন

রাস্তা যেন নদীর মতো
পানি থৈই থৈই কূল।
বাঁশ বাগানে মাথার উপর
চাঁদটি যেন ফুল।
নদীর বুকে ছোট নৌকা
পানির মতো মিল।
কাঁশ ফুল শরৎ কালে
রঙের বাহার ঝিল।
ফড়িং গুলো উড়ে উড়ে
জোনাক পোকার আলো।
দিন শেষে সন্ধ্যা নামে
রাতটি যেন কালো।
শিশির ভেজা ভোরের সকাল
ধান শালিকের মেলা।
বিকেল বেলায় সবাই মিলে
করি কত খেলা।
পূর্ব পানে আকাশেতে
রং ধনু ভরা।
বর্ষা কালে বজ্র পানে
আকাশ দেয় ধরা।
বটের ছায়ায় রাখাল বালক
বাশির সুরে গান।
বৃষ্টি নামে আকাশ থেকে
পানির জোয়ার বান।
দোয়েল পাখি শিষ দিয়ে য়ায়
গাছের ছোট ডালে।
ঝাকে ঝাকে পড়ছে মাছ
জেলের ফাঁদে জালে।

মোহাম্মদ আদিল:
তরুণ কবি ও সাহিত্যক,
উখিয়া, কক্সবাজার।

Comment here