আন্তর্জাতিক

যৌনকর্মীদের জোরপূর্বক শ্রম বন্ধ হচ্ছে

সংগৃহীত ছবি

অনলাইন ডেস্ক : পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিতদের শাস্তি দেয়া থেকে বিরত থাকবে চীন। এতদিন সেখানে পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত কোনো যৌনকর্মী ও তার খদ্দেরকে পুলিশ ধরতে পারলে তাদেরকে শাস্তি দেয়া হতো।

তাদেরকে তথাকথিত শিক্ষামুলক বন্দিশিবিরে আটকে রাখা হতো। এ সময় তাদেরকে কাজ করতে বাধ্য করা হতো। তারা খেলনা ও গৃহস্থালির পণ্যসামগ্রি তৈরি করতেন। কিন্তু শাস্তির এই ব্যবস্থা বন্ধ করছে চীন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়েছে, যৌনকর্মী ও তার খদ্দেরদের আটক রাখা ও শাস্তি দেয়ার এই ব্যবস্থার ইতি ঘটছে ২৯ শে ডিসেম্বর থেকে।

এর পরে যারা বন্দিশিবিরে থাকবেন তাদেরকে মুক্ত করে দেয়া হবে। চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে উদ্ধৃত করেছে বিবিসি। এতে আরো বলা হয়, চীনে দেহ ব্যবসা বেআইনি। এ অপরাধে কেউ অভিযুক্ত হলে তাকে ১৫ দিন আটকে রাখার বিধান আছে। একই সঙ্গে ৫০০০ ইয়েন জরিমানার বিধান আছে। সিনহুয়া দাবি করেছে, পতিতাবৃদ্ধিতে জড়িতদের নিরাপত্তা হেফাজতে নিয়ে তাদেরকে শিক্ষিত করে তোলার ব্যবস্থা সামাজিক পরিবেশকে উন্নত করতে সহায়তা করেছে। জনশৃংখলা রক্ষায় সহায়তা করেছে। ২০ বছরেরও আগে এই শাস্তি প্রচলন শুরু হয়।

তবে এই স্কিম কাজে আসছে কিনা তা নিয়ে ২০১৩ সালে এনজিও এশিয়া ক্যাটালিস্ট একটি গবেষণা করে। এতে দুটি শহরের ৩০ জন নারী যৌনকর্মীর সাক্ষাতকার নেয়া হয়। এতে বন্দিরা বলেছেন, বন্দি অবস্থায় তাদেরকে যা শিক্ষানো হচ্ছে তাতে তাদের নতুন কোন দক্ষতা বৃদ্ধি হচ্ছে না, যা তাদের মুক্তির পর কাজে লাগবে। রিপোর্টে বলা হয়, বন্দিদের জোর করে কাজে লাগানো হয়। ওই রিপোর্টে বলা হয়, ‘যেসব যৌনকর্মীকে ওইসব বন্দিশিবির থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে তারা সবাই মুক্তি পাওয়ার পর পরই ফের যৌন ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন’।

২০১৩ সালে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ১৪০ জন যৌনকর্মী, খদ্দের, পুলিশ ও বিশেষজ্ঞের সাক্ষাতকার নেয়। তাতে দেখা যায়, জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করতে গিয়ে অনেক যৌনকর্মীকে প্রহার করা হয়েছে। একজন যৌনকর্মী অভিযোগ করেছেন তাকে একটি স্বীকারোক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়েছে। তার ভাষায়, ‘পুলিশ আমাকে বলেছে স্বাক্ষর করা খুব ভাল একটি কাজ। আমি একবার কাগজে আমার নাম স্বাক্ষর করলেই তারা আমাকে চার থেকে ৫ দিনের মধ্যে ছেড়ে দেবে। উল্টো আমাকে ৬ মাস আটকে রাখা হলো কাস্টডি অ্যান্ড এডুকেশন সেন্টারে।

এশিয়া ক্যাটালিস্টের পরিচালক শেন টিংটিং বলেন, চীনে জোরপূর্বক বন্দিশিবিরে আটকে রাখার রীতি বন্ধ করা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে যৌনকর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় এটি একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস। চীনের আইন এবং নীতি যৌনকর্মীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞামুলক। যৌনকর্মীদের কাজ একটি পেশাদারিত্ব। এক্ষেত্রে চীন তাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে না।