রামু

রামুতে শিক্ষকের ধর্ষণের শিকার পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা

রাইজিং কক্স ডেস্ক : রামু উপজেলার ঈদগড় বড়বিল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া আমিনা আকতার নামে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ অভিযোগ ওঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ওই বিদ্যালয়ের খন্ডকালীন শিক্ষক এহতেশামুল হককে আটক করেছে পুলিশ।

গতকাল ভোররাতে রামু থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল খাইয়ের নেতৃত্বে পুলিশের টীম তাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। সে বড়বিল গ্রামের আমানুল হকের ছেলে।

সূত্রে জানা যায়, এহেতেশামুল হক ঈদগড় বড়বিল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন থেকে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে চাকরি করে আসছিলেন। একই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী কাটাজঙ্গল গ্রামের মালেশিয়া প্রবাসী জামাল হোসেনের মেয়ে আমিনা আক্তার (১২) চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ওই শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে প্রাইভেট পড়তেন। এরই মধ্যে উক্ত শিক্ষক তাকে পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাইয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে গত ছয় সাত মাস আগে থেকে ধর্ষণ করে আসছিল বলে থানায় দায়েরকৃত অভিযোগে দাবি করেন ছাত্রীর মা রশিদা বেগম।

ধর্ষিতা আমিনা আকতারের মা রশিদা বেগম জানান, শিক্ষক মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করে আসলেও এতদিন মেয়ে লোকলজ্জা এবং শিক্ষকের ভয়ে আমাদের কাছে বিষয়টি গোপন রাখে। কিন্তু এতদিনে মেয়ে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যায়। বিষয়টি আমার নজরে আসলে আত্মীয় স্বজনসহ পুরো এলাকার মানুষের কাছে জানাজানি হয়ে যায়।

তিনি আরো জানান, বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে ওই শিক্ষক গত ২১ জুলাই আমার মেয়েকে বাড়ি থেকে সুকৌশলে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে নিজ হেফাজতে গোপন করে ফেলে।

আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়েকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে অবশেষে গত শনিবার রামু থানায় লিখিত অভিযোগ করি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ উক্ত শিক্ষককে আটক করেছে বলে জানতে পারি। তবে এখনো মেয়ে কোথায় আছে জানি না।

এ প্রসঙ্গে রামু থানার উপপরিদর্শক মোরশেদ আলম জানান, ছাত্রীর মায়ের অভিযোগের পর এহতেশামুল হক নামে এক শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। সে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।