আইন আদালতসারাদেশ

রিফাত হত্যা: ফাঁসির রায় শুনতেই আদালতে পড়ে যায় মিন্নি

ছবি: সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক : বুধবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটে বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার রায় পড়া শুরু করেন বিচারক। রায়ে মিন্নিসহ ৬ আসামিকে ফাঁসির আদেশ প্রদান করা হয়। আদালতে ফাঁসির কথা শুনতেই জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়েন মিন্নি।

আসামি পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট সাইমুল ইসলাম রাব্বি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ফাঁসির রায় শুনে মিন্নি আদালতে পড়ে যায়। তা দেখে নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে তুলেন। আসামীদের স্বজনদের মতো আমরা আইনজীবীরাও এ মামলায় দীর্ঘদিন যাবত অক্লান্তভাবে আদালতে লড়ছি। ফাঁসির রায় শুনে আসামি পক্ষের আইনজীবীদেরও খারাপ লাগছে।

বুধবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে র‍্যাব  ও পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় এ মামলায় কারাগারে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক আট আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। তার আগে প্রাপ্তবয়স্ক  সব আসামিদের আগে বাবার মোটরসাইকেলে করে  সকাল সাড়ে আটটার দিকে আদালতে হাজির হন নিহত রিফাতের স্ত্রী ও এ মামলার অন্যতম আসামি আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি।

মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ৬ আসামিকে ফাঁসির আদেশ ঘোষণা করেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান। আসামিদের দণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ভুবন চন্দ্র হালদার।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মো. রাকিবুল হাসান ওরফে রিফাত ফরাজী (২৩), আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আকন (২১), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রেজোয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২২), মো. হাসান (১৯) ও আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি (১৯)। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- মো. মুসা (২২), রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২০), মো. সাগর (১৯) ও কামরুল হাসান সায়মুন (২১)।

রায়ের পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ২টা ৫০ মিনিটে মিন্নিকে আদালত থেকে ডিবি পুলিশের একটি কালো মাইক্রোবাসে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় মিন্নিকে মহিলা পুলিশদের হাতে ভর করে আদালত থেকে নামতে দেখা যায়। মিন্নিকে নেয়ার ১০ মিনিট পর ফাঁসির বাকি আসামিদের পুলিশের প্রিজনভ্যানে কারাগারে নেওয়া হয়। এসময় অন্য একটি গাড়িতে খালাসপ্রাপ্তদের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে খালাসপ্রাপ্তদের জামিনে মুক্ত করা হবে।

বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান রায়ে পর্যবেক্ষণে বলেন, রিফাত হত্যা মামলার আসামিদের নির্মম বর্বরতা ও নির্মমতা মধ্যযুগীয় কায়দায়কেও হার মানিয়েছে। এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে তাদের অনুসরণ করে অন্য যুবকরাও ধ্বংসের পথে যাবে। এসব আসামি (মিন্নিসহ ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ৬ আসামি) সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়ার যোগ্য।

বিচারক আরও বলেন, পাঁচজনের সহযোগী হিসেবে রিফাত শরীফ হত্যায় অংশ নিয়েছেন স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। একই সঙ্গে তারা ছয়জন রিফাতের মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন। এজন্য কলেজ গেটের সামনে সময়ক্ষেপণ করেন মিন্নি। রিফাতকে যখন মারার জন্য আসামিরা নিয়ে যাচ্ছিল তখন স্বাভাবিক ছিলেন মিন্নি। এতেই প্রমাণিত হয়, মিন্নি হত্যা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। তারই পরিকল্পনায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এজন্য তাকেও ফাঁসি দেয়া হয়েছে।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর মামলার রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা উচ্চ আদালতে যাব। আমরা আশাবাদী উচ্চ আদালতে মিন্নি খালাস পাবে।

আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এ রায় দুর্ভাগ্যজনক ও অনভিপ্রেত। রাষ্ট্রপক্ষ মিন্নির বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি।গুরুতর আহত হওয়ার পরও রিফাত মিন্নিকে দোষারোপ করেনি। এ ছাড়ও মিন্নি নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে রিফাতকে বাচাঁনোর চেষ্টা করেছেন। নিয়ে গেছেন হাসপাতালেও। আমরা এ রায়ে অসন্তুষ্ট। তাই উচ্চ আদালতে যাবো। যা বলার তা উচ্চ আদালতে বলবো। উচ্চ আদালতে মিন্নি খালাস পাবে বলে আমরা আশাবাদী।