কবিতাশিল্প ও সাহিত্য

রুহুল কাদের বাবুলের কবিতা

ফেরারি

হতাশার বিশাল চাদরে ঢাকা ক্ষয়িষ্ণু জীবন
জমতে শুরু করেছে টুকরো টুকরো মেঘ
কখন উঠবে সূর্য, সেই আশায় ফেরারি জনক
কন্যারা উড়তে শিখেছে ঘোর অন্ধকারে
মমতায় মমতায় পড়েছে ভাটির টান
সাঁতরায় নদীর উজানে,কখন আসবে জোয়ার?

প্লাবনে,বন্যায় ভেসে যাবে খড়-কুটো
জমানো কষ্টের কৌটো।

এমনতো হওয়ার কথা নয়,পরাজয় মানিনি কখনো
চেয়েছি বীজের চাষ,বারোমাস,রোপিত জীবন
প্যারাবন,বেড়িবাঁধ, ভেসে যায় উন্মত্ত-তোফানে
সিগন্যাল বাতি নেই,সবখানে ঝড়ের তাণ্ডব
কোনদিকে যাই?সাঁতরাই।কাতরাই
কিনারা তবু নাই।সামনে অথৈ জল।টলমল।
টগবগে বঙ্গোপসাগর!পেছনে পাহাড়।ঝোপঝাড়।
গা-ছমছম ভয়।সাত পাঁচ নয়।
তবু এগিয়ে চলি,নিরিবিলি ;জলকেলি –
বালিয়াড়ি চরে,পাথরের চাঁইগুলো উঠে আর ডুবে।

ফুসেঁ উঠে লোনাজল,কিসের বিক্ষোভ
তবুও রোদের আশায়,আশাহত ভালোবাসায়
কালের অতল তলে,হৃদয়ের মণি তড়পায়।

ফিরে যাবো-

তার কাছে ফিরে যাবো,সেই বিশ্বাসে অটল,
ভালোবাসা থরো থরো,ঝরে পড়ে এক নোক্তা জল;
সেই জলে বীজবুনে,গড়ে উঠে রক্তজবা ফুল
তারই নির্দেশে বাড়ে দুনিয়ার মানুষের কুল।

ডিপ ফ্রিজে শিলা বৃষ্টি –

আকাশজুড়া অন্ধকারে পুড়ছে কবর!
দাবদাহে জ্বলছে কেমন?নেই যে খবর!
বইছে নাকি ঠাণ্ডা হাওয়া?তারই ভেতর!
ডিপ ফ্রিজে শিলা বৃষ্টি?দুধের-নহর!

পরমার খোঁজে-

তোয়াবে খোয়াবে ছুটে বেহেস্তের হূর
মেহেদি রাঙানো পায়ে রাঙানো নূপুর
অবিরাম ছুটাছুটি অসীমার খোঁজে
বিশ্বাসের পুজিঁ নিয়ে দাঁড়াই-নামাজে

হেরায়-গুহায় আছে ধ্যান-জ্ঞান-প্রাণ
জীবন-সাজাতে নামে পবিত্র-কোরান
নূহের-প্লাবন দেখি ঘুম-ঘুম চোখে
কুহেতুর জ্বলে-পুড়ে দাঁড়ায়-সম্মুখে

আমার হৃদয়ে বহে কাবার- হাওয়া
আরাফাত-ময়দানে আবেগি চাওয়া
সবকিছু একাকার মদিনার শানে
প্রেমের-এশক্ বাড়ে বন্দেগির টানে

কলেমা জাগিয়ে দেয় ভোরের আজান
পরমার খোঁজে ছুটে জ্বীন-ইনসান

হরতাল

পাখি ওড়ে না,ফুল ফুটে না,ঢেউয়ের দেখা নাই
আকাশ ফাঁকা,তারার দেখা,যাচ্ছে নাতো আর;
কোথায় গেল বৃষ্টিবুড়ি,মেঘপরিরা কই?
রবির রেখা,যায় না দেখা,চাঁদের বুড়িও নাই
আকাশে পাতালে হাওয়ার গতিও রুদ্ধ চারদিকে।

কি হয়েছে? কি হয়েছে? বিশ্ব-টালমাটাল
আকাশ জোড়া,পাতাল জোড়া,চলছে হরতাল।

Comment here