রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে পৃথিবীতে মডেল হয়েছে বাংলাদেশ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

একে আবদুল মোমেন। ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে পৃথিবীতে মডেল হয়েছে বাংলাদেশ। এমন মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন। ‘রোহিঙ্গা-নিঃসঙ্গ নিপীড়িত জাতি গোষ্টি’ ও ‘শেষ সীমান্তের পর কোথায় যাবো আমরা’ দুটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলামের লেখা বই দুটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন প্রকাশনা সংস্থা খড়িমাটি।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর একমাত্র দেশ যারা একাই ১১ লক্ষ শরনার্থী আশ্রয় দিয়েছে। ইরাক, ইরান ও সিরিয়ার ১০ লক্ষ শরনার্থীকে ইউরোপের ২৭টি দেশ ভাগ করে নিয়েও সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। তিনি বলেন, আশ্রয়ের শুরুতে বিদেশি কেউ রোহিঙ্গদের সাহায্য করেনি। আমরাই তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছি, খাবার দিয়েছি। এই মহানুভবতা আর কোথায় আছে? আমরা এটার মাধ্যমে আদর্শ সৃষ্টি করেছি, মডেল সৃষ্টি করেছি; যে বাঙালিরা মানুষ। তারা মানুষকে মানবিকতা দেখাতে জানে।

মন্ত্রী বলেন, ১৭০০ খৃষ্টাব্দে রেনেসাঁ যখন প্রতিষ্টিত হয়, তারও আরো আগে বঙ্গভূমে চন্ডিদাশ লিখে গেছেন সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।

চন্ডিদাশের এই ক্যাম্পেইন যখন শুরু হয়েছে তখন ওইসব দেশ চিন্তাও করে নাই। আমরা সেই বাঙালী, আমরা সেই মানুষ। আমরা মানুষ বলেই এতো আগে মানবতার জয়গান গেয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের শাশ্বত সত্যকে আবার প্রতিষ্টিত রুপ দিয়েছেন এই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে।

একে আবদুল মোমেন বলেন, ১৯৭৮ সনে দেখেছি, ১৯৯২ সনে দেখেছি। তখন অনেক রোহিঙ্গা আমাদের দেশে এসেছে। ১৯৯২ সনে প্রায় ২ লক্ষ ৫৩ হাজার রোহিঙ্গা আমাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছিলো। পরবর্তিতে আলোচনার মাধ্যামে তারা ২ লক্ষ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত নিয়েছে। সে জন্য আমরা আশাবাদি। এখনো তারা নিয়ে যাবে। কিন্তু কখন তা বলা মুশকিল। তিনি বলেন, মায়ানমার আমাদের প্রতিবেশি রাষ্ট্র। তাদের সাথে আমাদের আলাপ হয়েছে। তারা বারবার বলেছে তাদের লোক নিয়ে যাবে। কখনো বলেনি নিয়ে যাবে না। আমরা বলেছি তাদের নিরাপত্তা তোমাদের নিশ্চিত করতে হবে। তারাও বলেছে তাদের সিকউরিটি এনশিউর করবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ প্রায় সাড়ে তিন বছর হল একজন রোহিঙ্গাও ফেরত যায়নি।

মন্ত্রী বলেন, গত বছর ৩০শে জানুয়ারির পর আমাদের বড় মিটিং হয়েছে। এরপর তারা কোভিড ও পরে ইলেকশনের বাহানা দিয়ে বিষয়গুলো পিছিয়ে নিয়েছে। তবে এবার তাদের দেশে ইলেকশন শেষ। আশা করছি আমরা আবার নতুন করে আলোচনা শুরু করতে পারবো।

মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলামের লেখা বই প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কথা বলতে রেফারেন্সের প্রয়োজন হয়। কারণ অনেকে মনে করে রোহিঙ্গারা চট্টগ্রাম থেকে পালিয়ে যাওয়া। তাই এই বইগুলোকে আমরা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারবো। এখানে ১২০০ বছর আগের ইতিহাসও লিপিবদ্ধ হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দক্ষিণ কোরিয়ার অনারারি কনসাল মো. মহসিন। মূখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন আবু আল নোমান। -মানবজমিন

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।