উখিয়াকক্সবাজারমাদক চোরাচালান

রোহিঙ্গা ইয়াবা ডন তারেক উল্লাহ গ্রেফতার

রাইজিং কক্স ডেস্ক : মিয়ানমার থেকে পালিয়ে কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলি সাত্তার ঘোনা ও উখিয়া কোটবাজারে বসবাসকারী ইয়াবা গডফাদার তারেক উল্লাহ ওরফে ইয়াবা তারেককে অবশেষে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ইয়াবা মামলার পলাতক আসামী তারেককে শনিবার বিকালে শহরের লিংক রোড এলাকা থেকে কক্সবাজার থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানায় দায়েরকৃত একটি মাদক মামলায় গ্রেফতার এড়িয়ে এই তারেক দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। শনিবার বিকালে শহরতলির লিংক রোড এলাকায় সদর মডেল থানার এসআই দেলোয়ারের নেতৃত্বে, এসআই জহিরসহ একদল পুলিশ এ অভিযান চালান।

বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গা তারেক কক্সবাজার পৌরসভার বাসিন্দা হন। তার বাবা, ভাই ও বোন সহ পরিবারের সদস্যরা উখিয়া মধুরছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। ইয়াবা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বড় গডফাদার তারেক উল্লাহ ওরফে আলেকিন তারেক বাংলাদেশী সেজে ইয়াবার কারবার জমজমাট ভাবে চালিয়ে আসছে। ইয়াবা মজুদের নিরাপদ স্থান হিসেবে কক্সবাজার পৌরসভার পাহাড়তলি সাত্তার ঘোনা ও উখিয়া কোটবাজার এলাকায় গড়েছে দুটি আস্তানা। পাকাবাড়ি নির্মাণ করে বিয়েও করেছে দুই রোহিঙ্গা নারীকে।

সুত্র মতে, তার বিশাল ইয়াবা সিন্ডিকেট রয়েছে কক্সবাজার শহর, খুরুস্কুল, কোটবাজার ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক। মিয়ানমারের বড়বড় কারবারীরা তার তিন ভাইয়ের জিম্মায় শহীদুল্লাহ. শফি উল্লাহ ও আজিম উল্লাহর মাধ্যমে ইয়াবা নিয়ে এসে মধুরছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে আসে। সেখান থেকে তারেক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি অননুমোদিত এনজিও’র মালামাল সরবরাহের নামে ক্যাম্পে গিয়ে নিয়মিত যাতায়ত করেন এবং ইয়াবা চালান কোটবাজার নিয়ে আসে।

তারেক উল্লাহ। পিতা-সমি উল্লাহ, রোহিঙ্গা আরএসও নেতা ছিল। মিয়ানমার থেকে কৌশলে কক্সবাজার এসে কক্সবাজার পৌরসভার সাত্তারঘোনা ৭নং ওয়ার্ডে জমি কিনে বাড়ি করেন। আরেক রোহিঙ্গা নারীকে খুরুস্কুল এলাকা থেকে বিয়ে করেন। তার শ্বশুরও বার্মা থেকে পালিয়ে এসে খুরুশকুল অবস্থান নেয়। তার প্রথম স্ত্রীও রোহিঙ্গা। তারেক বার্মা থেকে পালিয়ে এসে চাকমারকুল মাদ্রাসায় পড়ালেখাও করেছে। পাহাড়তলি ইসলামাবাদ মাদ্রাসায় কিছুদিন চাকরিও করেন।

নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সদরের খুরুস্কুল থেকে ১ম বিয়ে পর উখিয়া কোটবাজার বড়বিল ৭ নং ওয়ার্ড থেকে ২০০৭ সালে ২য় বিয়ে করেন। বর্তমানে দুই স্ত্রীই রয়েছেন। তাদের নামে কক্সবাজার শহর, কোটবাজারসহ বিভিন্ স্থানে রয়েছে ব্যাংক একাউন্ট।

এই তারেক উল্লাহ ইয়াবা ব্যবসা সহজ করার জন্য দুটি বিয়ে ও দুটি স্থান করেন। এদেশে অবস্থান করে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করে সম্পদ অর্জন করেন। কোট বাজার টিনসেড পাকা বাড়িতে তৈরি করেছিল জাল টাকার নোট। একটি বাহিনী তাকে আটক করেছিল। কিন্তু মোটা অংকের টাকায় সেই যাত্রায় বেচে যান তারেক। তবে এই ঘটনাটি এলাকার সবার মুখে মুখে।
তারেকের রয়েছে কক্সবাজার শহরের সাত্তার ঘোনা, পাহাড়তলি , উখিয়া কোট বাজার ও মধুরশিয়া কেন্দ্রিক রয়েছে বিশাল ইয়াবা ব্যবসায়ী নেটওয়ার্ক। স্থানীয় বেশ কিছু বখাটে যুবককদের তার সাথে রাখেন বডিগার্ড হিসেবে।

এই ইয়াবা কারবারি রোহিঙ্গা তারেক ওই এলাকার বেশ কিছু জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরকে হাতে রেখেছে। তাদেরকেও দেয় মাসিক হারে ভাতা। ইয়াবা ব্যবসা র্নিবিঘ্নে করতে মর্ডাণ হরবালের একটি কার্ড নাম মাত্র কিনে নিয়েছে। সেখানে করতে বাইনারি ব্যবসা।

রোহিঙ্গা তারেক অবশ্য গত কয়েকবছর আগে আসলেও তার পুরো পরিমাণ সবাই চলে আসে ২০১৭ সালে আগস্ট মাসে। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপর অমানবিক নির্যাতনের পর অন্যান্য রোহিঙ্গাদের সাথে তার বাবা মতি উল্লাহ, তার ভাই আজিম উল্লাহ, এনায়েত উল্লাহ ও শফি উল্লাহ স্বপরিবারে এসে উখিয়া মধুরছড়া (মধুরছড়া লোহার ব্রীজের পার্শে) ১৪ নং ব্লকের রেজিষ্ট্রার্ড ক্যাম্পে অবস্থান করছে।

তার ফুফুরা ও তার পিতা টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মিঠাপানিরছড়া এলাকায়। পুরাতন রোহিঙ্গাদের এদেশীয় আইডি কার্ড দিয়ে তার ফুফু পরিচয় দিয়ে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে কাউন্সিলর আশরাফুল হুদা সিদ্দিকী জামসেদ ভোটার তালিকাভুক্ত করেন বলে তারেক উল্লাহর দাবী। সেই তারেক উল্লাহ এখন স্মার্ট কার্ডও পেয়েছে। ডাকাত আবদুল হাকিমের ছোটভাই এর স্ত্রী হচ্ছে তারেক উল্লাহর বোন।

পাহাড়তলির মিরু অথবা নিরু মাঝি ও বৌ বাজারের জাফর সওদগরও তার সহযোগী। তার আরেক সহযোগী কোটবাজারের মনির মেম্বার । এই মনিরও ইয়াবাসহ চট্টগ্রামে গ্রেফতার হয়েছিল।

কোট বাজার এলাকার বিভিন্ন দোকানে কোটি টাকা লগ্নি করেছে। বেশ কয়েকটি ইটের ভাটায় অর্থ লগ্নি করেছে ৫০ লাখ টাকা।

তরকারীর দোকান, মাছের দোকানেও চড়া সুদে টাকা লগ্নি করেছে। স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে একাজে সহযোগীতা করছে। কোট বাজারের তার বাড়ি পাহারা দেয়ার জন্য স্থানীয় যুবক ছাড়াও ৪/৫ জন রোহিঙ্গা যুবক এনে রেখেছে। এছাড়াও মর্ডাণ হারবালের ওষুধ সরবরাহের নামে ইয়াবাও বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ দিয়ে আসছে। কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলি সাত্তার ঘোনা এলাকায় তার রয়েছে বিশাল ইয়াবা সিন্ডিকেট। সারা বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারে ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তার রয়েছে ইয়াবা বিস্তৃত নেটওয়ার্ক। ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে আসলেও দুরন্ধর ইয়াবা কারবারী বার বার গ্রেফতার এড়িয়ে যান।

কক্সবাজার সদর মডেল থানায় দায়েরকৃত একটি মাদক মামলায় গ্রেফতার এড়িয়ে এই তারেক দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেনেএই মাদক মামলাটি তদন্ত করছেন এসআই জহিরুল।

শনিবার বিকালে শহরতলির লিংক রোড এলাকায় সদর মডেল থানার এসআই দেলোয়ারের নেতৃত্বে এসআই জহিরসহ একদল পুলিশ এ অভিযান চালান।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) খাইরুজ্জামান বলেন, তারেককে গ্রেফতারি পরোয়ানা মুলে আদালতে সোর্পদ করা হবে।