রোহিঙ্গা ডাকাত নূর মোহাম্মদের স্মার্টকার্ড নিয়ে প্রশ্ন!

রাইজিং কক্স ডেস্ক : টেকনাফের আলোচিত রোহিঙ্গা ডাকাত নুর মোহাম্মদ। যার নামে আছে বহু মামলা। সেই চিহ্নিত অপরাধীই পেয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্রের স্মার্টকার্ড। যা ইস্যু হয়েছে চট্টগ্রাম থেকে। চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, যেসব তথ্য ব্যবহার করে এই কার্ড নেয়া হয়েছে তার বেশিরভাগই ভূয়া। এটাকে বড় ধরনের জালিয়াতি বলছেন বিশ্লেষকরা। এখন এ নিয়ে অনুসন্ধানের কথা বলছেন নির্বাচন কর্মকর্তারা।

টেকনাফে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে শনিবার (৩১ আগস্ট) রাতে মারা যায় আলোচিত রোহিঙ্গা ডাকাত নুর মোহাম্মদ। সেসময় তার কাছে পাওয়া যায় বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্রের একটি স্মার্ট কার্ড।

স্মার্ট কার্ডে তার নাম নুর আলম। ঠিকানা দেয়া হয়েছে চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহরের বার্মা কলোনী মাস্টারের মার বাড়ি। অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে মাস্টারের মার বাড়িই নেই। নুর আলম নামে কাউকে চেনেননা স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, এখানে মাস্টারের মার বাড়ি নামে কোন কিছু নাই। এটা ভুয়া ঠিকানা। এত বছর থাকি কেউত তাকে চিনে নয়া।

কার্ডটি ইস্যু করা হয় ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারি। নিয়ম অনুসারে ভোটার হতে হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির প্রত্যয়ন প্রয়োজন। কিন্তু কিভাবে এই রোহিঙ্গা ডাকাত কক্সবাজার থেকে এসে চট্টগ্রাম নগরের ভোটার হলো তা জানেন না ওয়ার্ড কাউন্সিলর। বিস্মিত নির্বাচন কর্মকর্তারাও।

পাঁচলাইশ থানা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাহিদ হোসেন বলেন, ‘ভোটার হালনাগাদের সময় যাচাইকারী হিসেবে একটা কমিটি থাকে। এটা সাধারণত কাউন্সিলর অফিসার হয়। কাউন্সিলর অফিসার অফিসার যাচাইয়ের পর জানালে আমরা ভোটার করি।’

পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মোবারক আলী বলেন, ‘এ ধরণের কোন ঘটনা ঘটছে কি না, তা প্রমাণ করার জন্য যে তথ্য দরকার তা আমরা পাইনি। আপনাদের কাছে জানার পর আমরা সার্ভার কপি বের করলাম। আমরা দেখব যে এখান থেকে কোন কিছু হয়েছে কি না।’

জানা গেছে, নুর মোহাম্মদ মিয়ানমারের মংডুর বাসিন্দা। ১৯৯২ সালে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে জাদিমুড়ায় বসতি স্থাপন করে ধীরে ধীরে সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে অপরাধকর্ম চালাচ্ছিল। টেকনাফে আসার পর ডাকাতি, অপহরণ আর ইয়াবা ব্যবসার মাধ্যমে বেশ কয়েকটি বাড়ি ছাড়াও বনে গেছে বিপুল সম্পদের মালিক। যেখানে রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়া নিয়ে এত কড়াকড়ি, সেখানে এমন চিহ্নিত একজনের স্মার্ট কার্ড পাওয়ার ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলছেন পর্যবেক্ষকরা।

সনাক-টিআইবি সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী বলেন, ‘যে লোকের ঠিকানা মিয়ানমার, সে এখানকার আইডি কার্ড সহজে পেয়ে যাবে এটা ভাবা যায় না। নিশ্চয় এখানে একটা চক্র আছে। নির্বাচন কমিশনে জড়িত একটা চক্র আছে। তারা অর্থের লোভে ও নৈতিকতার অভাবে এ কাজগুলো করছেন।’

সবশেষ মেয়ের কান ফোঁড়ানো উপলক্ষে জমকালো অনুষ্ঠান করে আলোচনায় আসে এই ডাকাত সর্দার। নূর মোহাম্মদের কিশোরী কন্যার কান ফোঁড়ানো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা স্বর্ণালংকার, রুপা, অনেকে নগদ টাকা, এমনকি ছাগল নিয়েও এসেছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে প্রায় এক কেজি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৪৫ লাখ টাকাসহ আরও নানা উপহার।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।