উখিয়ারোহিঙ্গা সংকট

রোহিঙ্গা নেতা মহিবুল্লার নেতৃত্বে ক্যাম্পে ন্যাশনাল ডে পালিত

মহিবুল্লা

রাইজিং কক্স ডেস্ক : দীর্ঘ চার মাস পর রোহিঙ্গা নেতা মহিবুল্লাহ আবারও বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। এবার তার সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস বা এআরএসপিএইচের ব্যানারে পালন করেছেন ‘রোহিঙ্গা ন্যাশনাল ডে’ বা রোহিঙ্গা জাতীয় দিবসের কথিত ৬৬ বছর পূর্তি। এ নিয়ে অন্যান্য রোহিঙ্গা সংগঠনের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এর আগে গত বছর ২৫ আগস্ট মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে উখিয়ায় মহাসমাবেশ করে বিতর্কের জন্ম দেন এই নেতা। সেসময় নড়েচড়ে বসে সরকার। এমনকি রোহিঙ্গা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রদবদল হয়।

সমাবেশ স্থলের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

জানা গেছে, শুক্রবার (৩ জানুয়ারি বিকালে) রোহিঙ্গাদের কথিত রোহিঙ্গা ন্যাশনাল ডে উদ্‌যাপন করে বিতর্কিত রোহিঙ্গা সংগঠন এআরএসপিএইচ ও এর নেতা মহিবুল্লাহ। উখিয়ার কুতুপালং মেগা ক্যাম্প-১ ওয়েস্টের সরকারি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ের কাছাকাছি লম্বাশিয়া চৌরাস্তার একটি মসজিদ-সংলগ্ন মাদ্রাসায় তাদের এ দিবসটি পালন করা হয়।

ওই মাদ্রাসায় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা মহিবুল্লাহ, আয়োজক মাস্টার আবদুর রহিম ও ডা. মো. যুবায়েরসহ এআরএসপিএইচের নেতারা দিবসটি উপলক্ষে বক্তব্য দেন। তারা বলেন, ১৯৫৪ সালের ৩ জানুয়ারি বার্মার জাতীয় সংসদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইউ নু রোহিঙ্গা স্বীকৃতির ঘোষণা দেন। ১৯৬২ সালে সাবেক জেনারেল নে ইউন ক্ষমতা দখলের পর থেকে দিবসটি বার্মায় আর পালন করতে দেননি।
এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট ক্যাম্প ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কোনো পূর্বানুমতি রয়েছে কি না জানার জন্য চেষ্টা করেও মহিবুল্লাহকে পাওয়া যায়নি। রোহিঙ্গা রিফুউজি কাউন্সিলের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা বলেন, মহিবুল্লাহ রোহিঙ্গাদের কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোকজনকে নিয়ে বারবার এ ধরনের কোনো না কোনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করে থাকে। তার এ ধরনের আত্মঘাতী কর্মকাণ্ডের ফলে বাংলাদেশের ক্যাম্পে আশ্রিত লাখ লাখ সাধারণ রোহিঙ্গাকে নানাভাবে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে।

কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা কমিটির সেক্রেটারি মো. নুর, রোহিঙ্গা অ্যাক্টিভিস্ট ডা. জাফরসহ রোহিঙ্গারা এআরএসপিএইচ ও উগ্রপন্থী রোহিঙ্গা নেতা মহিবুল্লাহর বাংলাদেশের আইনকানুন বিরোধী তৎপরতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, মিয়ানমারে কোনো সময় এ ধরনের দিবস পালনের নজির নেই। এ দিবস সম্পর্কে রোহিঙ্গারা কিছুই জানে না।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা উগ্রপন্থীদের বিতর্কিত কথিত নেতা মহিবুল্লাহ ও তাদের সংগঠন এআরএসপিএইচ ব্যানারে বাংলাদেশে ব্যাপক আকারে রোহিঙ্গাদের পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়ার দুই বছর পূর্তি পালন করে। এ উপলক্ষে কয়েক লাখ লোকের আয়োজিত সমাবেশে মহিবুল্লাহসহ রোহিঙ্গা নেতারা বিতর্কিত বক্তব্য দেন।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শামসুদ-দৌজা বলেন, ‘এমন অনুষ্ঠান পালন করার জন্য আমরা কাউকে অনুমতি দেয়নি। কেউ এভাবে ক্যাম্পে অনুষ্ঠান করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সূত্র: ডেইলি কক্স নিউজ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন