লেখক মুশতাক আহমেদ ও আমার সামাজিক ভাবনা

মনির ইউসুফ
বাঙালি জাতটা বর্বর থেকে গেলো। না আছে এদের কোন কালচার, না আছে সভ্যতা। অথচ, নিজেদের হাজার বছরের সভ্য জাতি হিসেবে গর্ব করে করেই মরে যায়। শতকরা ৯৫ ভাগ লোকই মুর্খ, ভণ্ড, প্রতারক, বাটপার, মিথ্যেবাদী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে সচিবালয়ের সেক্রেটারি পর্যন্ত। এরা সব করবে চোদন মোদন কোদন। কিন্তু বই পড়তে বললে আর নেই। সত্য ও সুন্দরের কথা বললে, বলে- এ যুগে তা চলে না, যুগের সঙ্গে চলতে গেলে অনেক কৌশলী হতে হয় ইত্যাদি। এরা নিজে নিজে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাটপার হয়ে যায়। ডাক্তার, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী, মুূদি, আহ! পুরোহিত, মোল্লা ভান্তে, আর জনতা এরা এতবেশি ধূর্ত কল্পনাও করা যায় না। এই বাটপারেরা জানে যে কে কার সঙ্গে বাটপারি করছে তা জেনেও করবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এরা নিজের সঙ্গে নিজেরা বাটপারি করে। স্বর্গের লোভ এদের এতবেশি যে দুনিয়াটাকে নরক বানিয়ে বসবাস করে। আর স্বর্গের সত্তরটা হুরের নেশায় বুদ হয়ে থাকে। এদেশের নারীরা এমন বর্বর তাদের মনে আল্লাহ এমন সিল মেরে দিয়েছে, তাদের মনের বিকাশ যেন কোনদিন না হয়, তাদের মনের বিকাশ হওয়ারও দরকার নেই, পতিতা হয়ে তারা মরতে চাই, পতিতা হয়েই তারা সংসার করে, ছেলে মেয়ে বিয়াই, স্বামীর সঙ্গে মনে এক মুখে এক মেয়ে গুলান ডঙ্গা শরীর নিয়ে সারাজীবন কাটিয়ে দেয়। তারা শিখে সম্পূর্ণ নেতিটা। ইতিবাচক মায়া, মহব্বত, প্রেম, ভালোবাসা তাদের স্পর্শ করে না। যত চোদন ততই তারা ভালো। জগতের সব কসমেটিক, স্বর্ণ নামের ধাতু তাদেরই দরকার। যদি বই পড়া, জ্ঞান অর্জনের কথা বলা হয় সর্পিনী এমন ফনা তোলে জীবন বরবাদ করে দেয়। মনে হবে, ধরণী দ্বিধা হও, আমি মাটির নিচে সেধিয়ে যাই। দামী দামী খাট পালং, কসমেটিক, ফ্রিজ শাড়ি, গয়না, গাড়ি, বাড়ি ইত্যাদি কিনবে। বই আহা! কি ন্যাকামী। বই কিনতে বললে তার কপালে ভাঁজ পড়বে। আমি বলি- হে বর্বর বাঙালি নরনারী বই ছড়া কে কবে, কোন জাতি সভ্য হয়েছে, কালচার তৈরি করেছে। আজকে আমাদের বাড়িতে বই নাই বলে কালচার নেই, সভ্যতা নেই, জ্ঞানের কদর নেই। কালচার কি এমনি এমনি তৈরি হবে হে বর্বরের জাত! তাই ছেলের হাতে মাবাপ মাইর খায়, ছেলে নেশা করে, মেয়ে নেশা করে। মাবাপ ছেলেমেয়েকে দমন করতে পারে না। আর দোষ দেয় ছেলেমেয়ের। এরা খারপ হয়ে গেছে, এদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। ছেলেমেয়েগুলো কোন কথা শুনে না। আপনি শাড়ি গয়না কসমেটিক পড়ে মনে করবেন সভ্য হয়ে গেছেন, আর আপনার ছেলেমেয়ে আপনার কথা শুনবে। আপনি নিজে যে ক্রমাগত বর্বর হয়ে উঠেছেন, তাতো বুঝবার ক্ষমতা জ্ঞান আপনার হয় নাই। জ্ঞান কি এত সহজে হবে। বই পড়লে হয়তো হতো।জ্ঞানের জন্য নিজের মনকে রুচিশীল করে তৈরি করতে হয়। রুচিশীল হতে বই কিনতে হয়, বই পড়তে হয়। বই পড়ার মধ্য দিয়ে একটা কালচার তৈরি হয় আর তখন মানুষ সভ্য হয়। এ কি এত সহজ! এর জন্য সাধনা দরকার। আপনি সাধনা করবেন না, চর্চা করবেন না; সব রেডিমেড আশা করেন। পৃথিবীর ইতিহাস ঘেটে দেখুন, আজকে যারা সভ্যতা নির্মাণ করেছে তাদের ইতিহাস পড়ে দেখুন। নিজের সঙ্গে নিজের বাটপারি বাদ দিয়ে এখন পড়তে বসুন। তাহলে স্বর্গ পেতে পারেন। বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর সব হয়েছে শুধু পড়াশোনা হয় নাই। বাটপার বুদ্বিজীবীরা যেমন এটা বুঝেনি তেমনি এদেশের বাটপার কবি,লেখক, গবেষক নামধারীরাও এটা বুঝতে পারেনি। ব্যবসায়ী, রাজনৈতিকবৃন্দ, আমলা, কামলা এরা এসব কি করে বুঝবে। এরা প্রতিমুহূর্তের বাটপারি প্রতিমুহূর্তে করতে না পারার অপরাধে ভোগে। এই বাটপার মানুষ নিয়ে কি করে একটা জাতি দাঁড়াবে। তাই দাঁড়ায় নাই। এ আমাদের নিয়তি। যদি নিয়তি হয় এই নিয়তি ভাঙতে হবে। যদি নিয়তি না হয় তাহলে পড়তে বসতে হবে। কেননা, বাংলাদেশের মানুষের এখন টাকা হয়ে গেছে এখন তাকে পড়ে আগাইতে হবে। তা না হলে তার কোন ভবিষ্যত নেই। না পড়ে পৃথিবীর কোন রেনেসাঁস হয় নাই, না পড়ে কোন শিল্পবিপ্লব, বিপ্লব হয় নাই। সভ্যতা ও কালচার ছাড়া কোন জাতি দাঁড়াতে পারে না। আর কালচার ও সভ্যতা দাঁড় করানো প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে বই পড়া, বই কিনা।
মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলা। মানবিক হয়ে ওঠা। নিজের যেমন পরের সুখদুঃখে খোঁজ খবর রাখা। বাঙালি এখন এমন হয়ে গেছে এই সামান্য আচারিক মাবিকতাকেও প্রজেক্ট আকারে নিয়েছে। এনজিও আর কোয়ান্টাম নামক প্রতিষ্ঠানগুলো যা শিখিয়েছে তা শিখে। ছোট ছোট কল্যাণের বাটপারির মধ্য দিয়ে তারা মানুষের মৌলিক অধিকারকে দমন করিয়ে দেয়। আর রক্তশোষা ঝোঁকের চেয়ে মানুষের রক্ত চোষে খায়। এটাকে বলা হয় উন্নতি। এভাবে উন্নতির নামে একটা দেশ ধ্বংস হয়। একটা দেশের প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যায়। বাটপার ও বর্বরেরা গাড়ি বাড়ি করে। এদেশের যারা ফ্লাট, প্লট, গাড়ি বাড়ি জমি ইন্ড্রাস্ট্রি বা ইংরেজি স্কুল, কলেজ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় করেছে তারা সবাই হৃদয়হীন বাটপার, প্রতারক, মূর্খ সীমাহীন লোভী। এদের দিয়ে একটি দেশ কিভাবে এগিয়ে যাবে, উন্নত হব। চাল ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বালু ব্যবসায়ী সবাই বাটপার। উন্নতির ব্যবসায়ীরা সব কানকির পোলা। কি করতে হবে এদের। এরা মানুষের মাংস, মন, হৃদয়, সংবেদ, স্বপ্ন, সুন্দর, মহত্ব সব খেয়ে ফেলতেছে। শিশুরা এখনও তা খায় নাই শিশুদের বাঁচাতে হবে। আর এদের রুখে দিতে হবে জ্ঞান চর্চার মাধ্যমে। আজ সময় এসেছে সত্যকে সত্য বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা। লেখক মুশতাক আহমেদ জীবন দিয়ে আমাদের তা দেখিয়ে দিয়েছেন।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।