কবিতাশিল্প ও সাহিত্য

শরৎ বুঝি এলো

ওমানা পারভীন শিলা

নবীন রবির কিরণ মেখে
জামিনী হাসে অপরুপ রুপে!
মুক্ত মানিক শিশির কনায় সেজে,
আবেশে লুটায়ে শিউলি
দূর্বা ঘাসের বুকে।
মৃদু মন্দ বাতাসে কাশফুল
নাচে নব হিল্লোলে।
শাপলা শালুক দীঘির জলে,
কামিনী কুসুম ফুলের বুকে
উন্মত্ত অলী পরাগ মাখে,
বিহঙ্গের সুর তোলে ভ্রমড়ের আনাগোনা।
নকশা কাটা মেঘের ফাঁকে ফাঁকে
সাদা পেঁজা তুলোক রাশি
যাচ্ছে বুঝি ভেসে কোন দূর পরবাসে।
মেঘ বালিকার কাজল চোখে
ঝরঝর বৃষ্টি ঝরিয়ে
রামধনু উকি দিয়ে আল্পনা ঐ আঁকে,
রঙিন আলোর দীপ্ত রেখায় আকাশ বুঝি সাজে।
শরৎ বুঝি ঐ এলো দাঁড়ে!
ভেজা শিমুল ডালের শাখে
ডানা ঝাপটানো পাখির দল
হিমেল পরশ মেখে আনমনে শিশ দিয়ে সুর তোলে,
সুরের মুর্ছনায় কলমি লতা
দুলায়ে মাথা স্নিগ্ধ পরশ মাখে,
ঘন সবুজ পল্লবে ধরনি উঠেছে জেগে।
সাদা বকের সারি দিচ্ছে পাড়ি
নীলিমার নীল গগন জুড়ি,
শঙ্খচিল শালিকের দল করে কলরব
নদী ভরা জল ছলাৎ ছলছল,
ধরনী উঠেছে মেতে!
কতো অপরুপ সাজে
শরৎ এসেছে দাঁড়ে!
দাঁড় খোল দাঁড় খোল
লাগলো যে দোল।