শীঘ্রই অবসরের ঘোষণা দিচ্ছেন আব্দুর রাজ্জাক

আব্দুর রাজ্জাক। ফাইল ছবি

ক্রীড়া ডেস্ক : তিনিই সম্ভবত বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচক, যিনি খেলোয়াড়ী জীবন শেষ করার আগেই জাতীয় দলের নির্বাচক বনে গেছেন। গত ২৭ জানুয়ারি বোর্ড পরিচালকের সভায় জাতীয় দলের সাবেক স্পিনার আব্দুর রাজ্জাককে নতুন নির্বাচক হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে বিসিবি।এক সময়ে যারা ছিলেন তার খেলোয়াড়ি জীবনের সঙ্গী, সেই মিনহাজুল আবেদিন নান্নু আর হাবিবুল বাশার সুমন ১৪ দিন আগে রাজ্জাকের সাথে নতুনভাবে গাঁট বেঁধেছেন।

তারা এখন জাতীয় দলের নির্বাচক। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের নির্বাচক কমিটি ছিল দুই জনের। রাজ্জাক হলেন তৃতীয় নির্বাচক। তাকে দিয়েই কোটা পূর্ণ হয়েছে নির্বাচক প্যানেলের।

সেভাবে ধরলে গতকাল ১১ ফেব্রুয়ারি থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচক হিসেবে কাজ শুরু করেছেন রাজ্জাক। জাতীয় দলের ব্যবস্থাপনা ও পরিচলনার দায়িত্বে থাকা ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান বৃহস্পতিবার বিকালে শেরে বাংলায় জানিয়ে দিয়েছেন, ‘রাজ্জাক এরই মধ্যে নির্বাচক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে এবং এখন থেকে সে নির্বাচনী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়ে গেছে।’

তিন নির্বাচককে বাংলাদেশ আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট দেখেন। এবং খেলা চলাকালীন হোম অফ ক্রিকেটের গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডে একসাথে দাঁড়ানো অবস্থায় ক্যামেরায় ধরা পড়েন।

এখন প্রশ্ন একটাই রাজ্জাক তো এখনো খেলা ছাড়েননি। ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেন নিয়মিত। এবারের প্রিমিয়ার লিগেও এ দেশের অন্যতম সেরা বাঁ-হাতি স্পিনার ঢাকা মোহামেডানের অধিনায়ক। জাতীয় লিগে তিনি এখনো খুলনা বিভাগের হয়ে খেলেন। সর্বশেষ জাতীয় লিগে অধিনায়কত্বও করেছেন।

এছাড়া বিসিএলেও রাজ্জাক নিয়মিত খেলেছেন। সব মিলে রাজ্জাক এখনো ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত পারফরমার। কিন্তু দেশের ক্রিকেট বোর্ডের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোন বর্তমান ক্রিকেটার জাতীয় দলের নির্বাচক হতে পারবেন না। তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলা ছাড়তেই হবে।

তবেই কেবল তিনি নির্বাচক হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাবেন। তাহলে রাজ্জাককে আগে খেলা ছাড়তে হবে। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায়ের ঘোষণা দিতে হবে।

সেটা কবে দেবেন? কবে-কখন আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেবেন? এমন প্রশ্ন রাখা হলে রাজ্জাক জানান, ‘নিয়ম অনুযায়ী আমাকে মাঠ থেকে সরে দাঁড়াতেই হবে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আমাকে আগে খেলা ছাড়তে হবে। তাই এখন আমার অবসরে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। আমাকে ক্রিকেট মাঠ থেকে আগে বিদায় নিতে হবে।’

সেটা কবে নাগাদ? রাজ্জাকের জবাব, ‘খুব শিগগিরই আমি আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠ থেকে বিদায় নেব।’ অবসরে যাবার প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলেন রাজ্জাক। জানিয়ে দেন তার অবসরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসছে খুব শিগগিরই। হয়ত আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই।

ভেতরের খবর, ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (কোয়াব) রাজ্জাকের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করবে এবং তার অনির্ধারিত তারিখ হচ্ছে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি। টেস্ট চলাকালীন সময়ে। তা না হলেও এক সপ্তাহেরর মধ্যে খেলোয়াড়ি জীবনের অবসান ঘটানোর আনুষ্ঠানিকতা সারতে যাচ্ছেন আবদুর রাজ্জাক রাজ।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।