সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে সৌন্দর্য বর্ধনশীল ঝাউবীথি

উখিয়া সংবাদদাতা : পর্যটন রাজধানী নামে খ্যাত কক্সবাজারের উখিয়ার সমুদ্র উপকূল মেরিনড্রাইভ সংলগ্ন ২ কিলোমিটার ঝাউ বাগান সমুদ্রে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বর্ষার মৌসুমে সাগরের জোয়ারের তীব্র আঘাতে সারি সারি  ঝাউবীথি  হারিয়ে যাচ্ছে।

ফলে সৌন্দর্য বর্ধন বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বসবাসরত ভূমিহীন  ৪ শত পরিবার হুমকির মুখে পড়েছে।

উপজেলার জালিয়া পালং ইউনিয়নে পশ্চিম          সোনার পাড়া, চর পাড়া, গুচ্ছ গ্রাম, সমিতি পাড়া ও টিন পাড়া সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের শত শত পরিবার বসবাস করে আসছে। বঙ্গোপসাগরের তীরে এসব  গ্রামের বাসিন্দারা এখন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। দীর্ঘদিন যাবৎ বঙ্গোপসাগরের তীর ভাঙনের ফলে তলিয়ে যাচ্ছে বিস্তৃত সমুদ্র চর।

সরজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, সাগরের জোয়ারের তীব্র আঘাতে সমুদ্র চর পার হয়ে এবার ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে মেরিনড্রাইভ সংলগ্ন ঝাউ বাগানে।

সোনার পাড়া পুলিশ চেকপোস্ট সংলগ্ন সমুদ্র পাড় থেকে শুরু করে রেজু’র মোহনা পর্যন্ত দীর্ঘ ২ কিলোমিটার   পর্যন্ত বিস্তৃত ঝাউ বাগান প্রায় সমুদ্র গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত জোয়ারের পানি এই বাগানে প্রবেশ করে। এ ভাবে ভাঙ্গন চলতে থাকলে ঝাউ বাগান বিলীন হয়ে আঘাত আনবে  সরাসরি মেরিনড্রাইভ সড়কে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে মেরিনড্রাইভ এর সৌন্দর্য বর্ধন করা হলেও মেরিনড্রাইভ রক্ষায় দেখা যাচ্ছে না তেমন কোনো উপযোগী উদ্যোগ।

সচেতন নাগরিক সমাজের অভিমত  স্বপ্নের  মেরিনড্রাইভ সড়ক  লক্ষ মানুষের বিনোদন ও পর্যটন শিল্পের মধ্যমনি হলেও আজ  দিন দিন হুমকির মুখে পতিত হচ্ছে। তা সরাসরি প্রভাব ফেলবে জাতীয় অর্থনীতিতে।

তাছাড়া সমুদ্র উপকূলীয় ঝাউ বাগানে প্রায় ভূমিহীন পরিবার গুলো দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত  বাড়ি-ঘর ও  জীবনযাপন হুমকির মুখে পড়েছে। 

পশ্চিম সোনার পাড়া ঝাউ বাগানে বসবাসকারী নূর মোহাম্মদ বলেন, “প্রতিদিন জোয়ারের পানিতে ১০-১২ টি করে ঝাউগাছ ভেঙে যাচ্ছে। বেশ কিছুদির যাবৎ আমরা খুবই আতঙ্কে বসবাস করছি। 

নূর আলম বলেন, “আমরা ভূমিহারা হয়ে এখানে বসবাস করতাম কিন্তু এভাবে ঝাউগাছ ও সমুদ্র পাড়ের ভাঙনের কারণে আমরা এখানে বসবাস করার মতো সাহস পাচ্ছি না।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয়রা জানান, “ইতোমধ্যে জোয়ারের পানি মেরিনড্রাইভ ছুঁই ছুঁই অবস্থা দেখা যাচ্ছে। তাছাড়া এই প্রাকৃতিক সম্পদ গুলো এভাবে ধ্বংস হয়ে গেলে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ইতোমধ্যে ঝাউ বাগানে বসবাসরত অনেক ভূমিহীন মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে সমুদ্রে তলিয়ে গেছে।
জালিয়া পালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী জানান, সাগরের করাল গ্রাস থেকে ঝাউবীথি রক্ষা করার জন্য সরকারি  ভাবে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন সময়ের দাবি।  
তিনি আরও বলেন, দ্রুত  বিহীত করা হলে রক্ষা পাবে দেশের অন্যতম এই প্রাকৃতিক সম্পদ ও পর্যটন শিল্প।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।