পাঠকের কলাম

সাধু সাবধান

আবদুল্লাহ আল হারুন

আবদুল্লাহ আল হারুন : দীর্ঘ দুইমাস পর ঈদের ছুটিতে ফিরছিলাম বাড়ি। বাড়ি আমার উখিয়ার থাইংখালীতে। চাকরির সুবাদে চট্টগ্রামে থাকা। জ্যাম থাকায় লিংকরোড পৌঁছোতেই সন্ধ্যা এলো নেমে। ‘কক্সবাজার- টেকনাফ সরাসরি স্পেশাল সার্ভিস’ নামক বাসে পাশাপাশি দুই সিট নিয়ে রওয়া দিলাম থাইংখালীর উদ্দেশ্যে।

বুঝতে ভুল হলো যে বাসটি লোকাল বাস ছিল! খানাখন্দে ভরা সড়কে গাড়ির গতি যেন কচ্ছপ গতি! কোনরকমে উখিয়া স্টেশনে পৌছালাম রাত সাড়ে আটটায়। যেতে হবে আরও বিশ কিলোমিটার মতো। লক্ষ করলাম, উখিয়া স্টেশন থেকে পাঁচ থেকে ছয় জনের একটি রোহিঙ্গা দল বাসটিতে উঠে পড়লো। বাসের সিটে বসা বেশিরভাগই রোহিঙ্গা ছিল। যে রোহিঙ্গা যুবকেরা গাড়ি উঠলো তারা আমার গা ঘেঁষে দাঁড়ালো। তাদের গন্তব্য কুতুপালং এবং বালুখালী ক্যাম্প। কিছুদূর না যেতেই এক রোহিঙ্গা সিগারেট ধরানোর চেষ্টা করলো আমার পাশে দাঁড়িয়ে। আমি পরিস্থিতি কিভাবে সামাল ভেবে কূল পাচ্ছিলাম না কারণ স্থানীয় হলেও এলাকার বৃহৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান আমার নেই। এরপরও লোকটাকে আমাদের স্থানীয় ভাষা বলে দিলাম গাড়িতে ধুমপান করা যাবে না। এ কথা বলার পর মোটামুটি ভয়ও পেয়ে গেলাম কারণ পত্রিকায় বহুবার রোহিঙ্গাদের হিংস্র মনোভাবের প্রমাণ পেয়েছি। তারা সংঘবদ্ধ ছিল তাই যেকোনো মুহুর্তে আমার জন্য বিপদ হতে পারতো। খেয়াল করলাম, ওই কথা বলার পর তারা সরাসরি কিছু না বললেও আমি শুনতে পেলাম তারা আমাকে উদ্দেশ করে টিটকারিমূলক কথা বলেছে। তারা কুতুপালংয়ে বেশ কজন নেমে গেলো। বাকিরা বালুখালীতে নামল।

নিজেকে ঝুঁকিমুক্ত মনে হলো। ঝুঁকির কারণটা এখন উখিয়া- টেকনাফের স্থানীয়দের কাছে পরিষ্কার। কেননা, গত একশ বছরে যতটা হত্যাকাণ্ড কক্সবাজারের এই দুই উপজেলায় হয়নি তার চেয়ে বেশি ঘটে গেল এই দুই বছরের মধ্যেই! স্থানীয়রা তাদের আক্রোশের সরাসরি শিকার না হলেও পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা আরেকজন রোহিঙ্গাকে হত্যা করতে দ্বিদ্বাবোধ করেনি। যাক, কোনরকমভাবে বাড়ি পৌঁছালাম নিরাপদে।

কিন্তু আমরা এখন এলাকায় কতটা নিরাপদ? বলতে গেলে মোটেও নিরাপদ নহে। এক মিলিয়নেরও বেশি এক হিংস্র জনগোষ্ঠীর ভয়ানক আঁছড়ের কাছে আমরা মোটেও নিরাপদ নই। তাই সময়টা ঘনিয়ে আসার আগে সাবধান হওয়া বেশি জরুরী।

লেখক: শিক্ষক, গাছবাড়িয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।