উখিয়ালাইফস্টাইল

সুস্থ শরীরের জন্য ব্যায়ামের কোন বিকল্প নেই

পাওয়ার জিম সেন্টারের জিম করছেন তরুণরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। শৈশব থেকে এই কথাটি আমরা কমবেশি সবাই প্রায়ই শুনে আসছি। আমাদের সমাজের দৃষ্টিতে এখনও কিন্তু স্বাস্থ্যবান বলতে বোঝায় একটু মোটাসোটা ব্যক্তি, যার শরীর মাংসল ও স্থূল। তবে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে।

বিজ্ঞাপন

তাদের কাছে স্বাস্থ্যবান ব্যক্তি বলতে বোঝায় অন্য কিছু। তাদের কাছে ‘বডি’ শব্দটির গুরুত্বই আলাদা। বন্ধুর জিম করা সুঠাম দেহ দেখে ‘দোস্ত তোর বডি তো অস্থির’ বলতে বিন্দুমাত্রও দ্বিধা করে না তারা।

হলিউড বা বলিউড চলচ্চিত্রের নায়কের সুঠাম মেদহীন শরীর দেখে মনের অজান্তেই তারা বলে ওঠে ‘উফ কী ফিট বডি!’ আর সেই সঙ্গে মাথার মধ্যে ঘুরতে থাকে ওই নায়কের মতো বডি বানাব কিভাবে সেই চিন্তা। সালমান খান, আমির খান কিংবা হৃতিকের মতো হতেই হবে। শুরু হয়ে যায় ফিটনেস আনার প্রতিযোগিতা। এক্ষেত্রে, বাস্তবের যুদ্ধে যেমন সঠিক কলাকৌশল এবং যুদ্ধাস্ত্র ছাড়া পরাজয় সুনিশ্চিত, তেমনি ফিটনেস অর্জনের এ যুদ্ধেও সঠিক কলাকৌশল জানা বাঞ্ছনীয়। সঠিক জ্ঞান ও কলাকৌশল অবলম্বন না করার দরুন বডি বানানোর স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। অনেক সময় দেখা যায় ১১-১২ বছরে অনেকেই নিজের পছন্দের নায়কের মতো সুন্দর ফিটনেস চায়। তাই কোন পরামর্শ ছাড়াই হাতের পেশী বাড়ানোর কিছু ইন্সট্রুমেন্ট কিনেই ব্যায়াম করা শুরু করে দেয়। কিন্তু অনেকেই জানে না যে অপ্রাপ্ত বয়সে ব্যায়াম করার জন্য কোন ইন্সট্রুমেন্ট ব্যবহার করা ঠিক নয়; ১৮ বছরের আগে তো নয়ই। এ সময়টাতেই সাধারণত শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন আসে। এ সময়ে অপরিকল্পিত ব্যায়ামের কারণে বিভিন্ন ধরনের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। যেমন -অনেক সময় বডির গ্রোথ থেমে যায়। এজন্য যারা নিজেদের বডি ফিটনেস অর্জন করতে আগ্রহী তাদের উচিত জিমে ভর্তি হওয়া এবং দক্ষ ট্রেনারের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক নিয়মে জিম করা।

সুস্থ, শক্তপোক্ত ও সুন্দর শরীরের অধিকারী হতে এখন অনেকেই ছুটছেন কক্সবাজারের ফিটনেস সেন্টারগুলোয়। ইদানীং কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেল এবং রিসোর্টেও স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য রয়েছে ফিটনেস সেন্টারের সুবিধা। তেমনি উখিয়ার কোটবাজারের এন আলম মার্কেটের সামনে (হাজী মার্কেট) ২য় তলায় ১ বছর পূর্বে সুপরিসরে চালু হয়েছে স্বাস্থ্যসচেতন নাগরিকদের জন্য ‘পাওয়ার জিম সেন্টার’। আপনি যেনে অবাক হবেন যে পাওয়ার জিম সেন্টারই উখিয়া উপজেলার একমাত্র জিম সেন্টার।

পাওয়ার জিম সেন্টারের সদস্য হতে যা যা লাগবেঃ পাওয়ার জিম সেন্টারে সদস্য হতে হলে ভর্তির জন্য ফি ১ হাজার টাকা এবং মাসিক ফি ৫ শ’ টাকা দিতে হয়। এছাড়া ভর্তির আবেদনের সঙ্গে দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংযুক্ত করতে হয়।

প্রিয় কোনো মানুষের কাছ থেকে উপহার পাওয়া স্কিনটাইট টি-শার্টটি পরতে হলে আর যা-ই হোক, নিজের বুকের ছাতিটা তো চওড়া হতে হবে। আর সে সঙ্গে যদি মেদহীন কোমর আর ঈষৎ ভারী মজবুত পেশির পেটা শরীর হয়, তাহলে তো সোনায় সোহাগা। সুঠাম দেহ গড়ার জন্যই ইদানিং পাওয়ার জিম সেন্টারে নিয়মিত ব্যায়াম করতে আসেন তরুন যুবারা।

এ এই সেন্টারে গেলে চোখে পড়ে কেউ আরশিতে নিজেকে দেখতে দেখতে দুই হাতে ভর দিয়ে নিজের শরীরটাকে তুলে দিচ্ছেন শূন্যে। সমতল বেঞ্চে পিঠ লাগিয়ে ১৫-২০ কেজি ওজন তুলছেন অনেকে। অনেকে আবার এসব ভারী ব্যায়ামের ধারেকাছে না গিয়ে ফ্রি হ্যান্ড জোনে গিয়ে জিম বল দিয়ে যাচাই করে নিচ্ছেন, শরীর আসলে কতটা নমনীয়। তবে জিমনেসিয়ামে বেশ বড়সড় জায়গাজুড়ে রাখা মাল্টিস্টেশন যন্ত্রে ব্যায়াম করার মজাই আলাদা।

অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিঃ সুস্থ ও সুন্দর শরীরের জন্য যেমন ব্যায়াম করা প্রয়োজন, তেমনি ব্যায়ামের জন্যও দরকার ভালো যন্ত্রপাতি। চলতি বছরের শুরুতে পাওয়ার জিম সেন্টারকে নতুন নতুন যন্ত্রপাতি দ্বারা আধুনিকায়ন করা হয়েছে। আধুনিক ফিটনেস সেন্টার উপকরণের মধ্যে রয়েছে ট্রেড মীল, ইলেক্ট্রিক বাইসাইকেল, প্রগ্রামাস বাইসাইকেল, ম্যানুয়াল স্প্রিং বাইসাইকেল, ট্রেন স্টেশন, বক্সিং বল, সেটাপ ব্যাঞ্চ, এভাকিং এবং ওয়েট লিপ্টিং ইত্যাদি। ব্যায়ামের যন্ত্রগুলো দেখতে অনেকটা একই রকম হলেও প্রতিটারই কাজ আলাদা। যাদের মেদভুঁড়ি কমানোর দরকার, তারা প্রতিদিন মিনিট বিশেক ট্রেড মিলের ওপর দৌড়াতে পারেন। আবার শরীরটাকে সতেজ রাখতে যেমন বাইকিং-সাইক্লিংয়ের বিকল্প নেই। দৌড়ানোর জন্য রয়েছে ট্রেড মেইল। বডি ও মাংসপেশি মজবুত করার জন্য ওয়েট লিপটিং টেন স্টেশন, জগিং করার ক্ষেত্রে সাহায্য নিতে পারেন ইলেকট্রিক্যাল বাইসাইকেলের, পায়ে শক্তি বৃদ্ধি করতে ব্যবহার করতে পারেন লেগকার্ল ও স্টোপার। বুকের ছাতি চওড়া করতে ব্রেন্সে প্রেসের সাহায্যও নিতে পারেন। ঊরু, হাঁটু ও গোড়ালির জন্য রয়েছে অ্যারগোমেটিক বাইসাইকেল, স্প্রিং বাইসাইকেল ও টেবোলেশন বাইসাইকেল। সকলে জেনে খুশী হবেন জিমে নতুন যন্ত্রপাতি আনার পর থেকে ফিটনেস সেন্টার ব্যবহারকারীদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জিমে যাওয়া, জিম করে বডি বানানো আজ কাল তরুণ প্রজন্মের ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের জিমের প্রতি আগ্রহ এবং চাহিদা দেখে গড়ে উঠছে অসংখ্য আধুনিকমানের ফিটনেস সেন্টার। আর তরুণ প্রজন্মের এই আগ্রহ ফিটনেস সুন্দর করার পাশাপাশি সমাজকে রোগমুক্ত রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। শহরের আধুনিকতম সুযোগ সুবিধা নিয়ে আপনাদের অপেক্ষায় রয়েছে পাওয়া জিম সেন্টার । নিজেকে নিরোগ এবং স্বাস্থ্যবান রাখতে আজই চলে আসুন আপনাদের সেবায় নিয়োজিত পাওয়ার জিম সেন্টারে।

পাওয়ার জিম সেন্টারে ভর্তি ও ব্যায়াম সংক্রান্ত আরো তথ্য জানতে যোগাযোগ করুন↓

আবদুল্লাহ আল মামুন
সত্বাধিকারী
পাওয়ার জিম সেন্টার
এন আলম মার্কেটের সামনে (হাজী মার্কেট) ২য় তলা, কোটবাজার, উখিয়া, কক্সবাজার।
মোবাইল: 01829-628316

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন