স্বাধীনতা আমার দীপ্তপ্রাণের অহংকার

সুলতান আহমেদ

এইদেশে একদিন দাদীমা’রা স্মৃতিভারাতুর
গল্প বলবেন-
বহুকাল আগে আমাদের নিজেদের ঘর ছিল
কিন্তু আমরা সে ঘরের মালিক ছিলামনা।
আমাদের নদী ছিল, জলাশয় ছিল; কিন্তু
সে নদীতে জলাশয়ে আমরা সাঁতার দিতামনা।
কুমির আর বোয়াল ছিল অতি হিংস্র আর সর্বদা সক্রিয়।

আমাদের বাগান ছিল যেখানে ফলফুল চুরি হতো নিত‍্যনিয়ত
সেখানে কোন পাখির নীড়ও ছিলনা
তস্কর শিকারীরা হানা দিত বারবার;

এভাবেই কেটেছে আমাদের বিনাশের কাল।

অতঃপর শিকারীরা আগুন লাগালো ঘরে নদীতে বাগানে
আর আমাদের কুমারী স্বপ্নেও দাউদাউ লেলিহান।

ঘোর দুর্দিনে সাহসী একজন বীর বজ্রকণ্ঠে দিলো হাঁক-
“তোরা সব জাগরে জাগ”!

সাতই মার্চে উঁচিয়ে ধরা সে অগ্নিগর্ভ তর্জণী
যেন উর্ধ্বমুখী আকাশছোঁয়া

“এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তিরসংগ্রাম”

সেই বজ্রকণ্ঠের ধ্বনি কাঁপিয়ে দিলো সমগ্র দেশ
ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ার অনুপ্রেরণা;
কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙলো সেদিন-
আমাদের ছেলেরা জাগলো
দাঁড়ালো বুকচিতে,প্রদীপ্ত মশাল হাতে;
আগুন ও জলে নেভালো সে আগুন।

চারিদিকে কলস্বর-
“তোরা সব জয়ধ্বনি কর”!

অতঃপর ঘরের মালিক হলে নিরুপদ্রব শংকাহীন
পেয়ে গেলে জলকেলির অবিচল অধিকার
আর লালসবুজ পতাকা শোভিত ফুলেফলে সাজানো বাগান
মানচিত্রের ছাপ্পান্নহাজার বর্গমাইল ভূমি
স্বাধীনতার দীপ্তপ্রাণের অহংকার।

(২৬-১১-২০০৪)

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।