সারাদেশ

হেমন্তিকা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী এবং…

কালাম আজাদ :
১৯৮৬ সালের ৪ এপ্রিল বাম রাজনৈতিক ধারার গণ-সংস্কৃতি চর্চা ও প্রসারের উদ্দেশ্যে সংগীতশিল্পী এইচএম রিয়াজ শহিদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় হেমন্তিকা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী। হেমন্তিকা সাংস্কৃৃতিক গোষ্ঠীর প্রথম সভাপতি ছিলেন চট্টগ্রামের প্রখ্যাত যাদু শিল্পী পার্থ সারথি চক্রবর্তী। রিয়াজ শহীদ ১৯৮৯ সালে চট্টগ্রাম জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাংষ্কৃতিক সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক ইউনিয়নের পরিচালক থাকাকালে হেমন্তিাকার মাধ্যমে বিপ্লবী বার্তা নিয়ে গণসংষ্কৃতি প্রসারে বৃহত্তর চট্টগ্রামের সর্বত্রে সাংষ্কৃতিক আন্দোলকে সংগঠিত করেন। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনেও হেমন্তিকা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর ভূমিকা অপরিসীম।
সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে গান-নাটক-গণসংগীত দিয়ে কক্সবাজারের গণমানুষের মুক্তির প্রয়াসে ১৯৯১ সালের ২৩ নভেম্বর হেমন্তিকা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর কক্সবাজার শাখার খোলা হয় । এইচএম রিয়াজ শহীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শম্ভুনাথ চক্রবর্তী, সুজন কল্যান বড়ুয়া, অনিল দত্ত, লিনা বড়ুয়া, রিকা বড়ুয়া, হিমু, টুটুল পাল, সুভাশিষ বড়ুয়া পিকু, উত্তম নন্দী, জহির উদ্দিন, সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিক, লিটন পাল, সংগ্রাম পাল, প্রদীপ পাল প্রমুখকে নিয়ে কক্সবাজারে হেমন্তিকা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর যাত্রা শুরু হয়।

হেমন্তিকা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর সভাপতি সাধারণ সম্পাদক এবং পরিচালক হিসেবে সংগঠনকে সমৃদ্ধ করেন তাদের মধ্যে প্রফেসর মোশতাক আহমদ, এসএএম সানাউল্লাহ, উত্তম নন্দী, রিকা বড়ুয়া, শম্ভুনাথ চক্রবর্তী, হোসনে আরা স্বপ্না, অনিল দত্ত, জয়ন্তী বড়ুয়া অন্যতম।

১৯৯৩/৯৪ সালের দিকে রামুর সংস্কৃতিকর্মী তপন মল্লিককে আহ্বায়ক ও সুনয়ন বড়ুয়াকে সদস্য সচিব করে হেমন্তিকা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর রামু শাখা গঠন করা হয়। হেমন্তিকা রামু শাখায় যারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তাদের মধ্যে তপন মল্লিক, সুনয়ন বড়ুয়া, চম্পক বড়ুয়া জুয়েল, সুচনা বড়ুয়া, পল্লী বড়ুয়া, ইস্কান্দর মির্জা, মুহিবুল্লাহ চৌধুরী জিল্লু, মন্দিরা বড়ুয়া, তাপস মল্লিক, জিল্লী বড়ুয়া, মানু বড়ুয়া, হীরক বড়ুয়া, নানকু, পুলক বড়ুয়া অন্যতম।
হৈমন্তিকার প্রতিষ্ঠাতা রিয়াজ শহীদ ‘তুই তো শালা ঘাতক দালাল একাত্তরের রাজাকার ’ ওরা মানুষ মারে, বুঝেনারে মানুষের ক্ষতি, কী সৌন্দর্য্যা সৈকত নগরী কক্সবাজার’সহ ১০০টির গান রচনা করেন এবং সুরারোপ করেন।
হেমন্তিকা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী নিজস্ব রচিত নাটক মঞ্চায়ন করেছেন। তার মধ্যে এইচ এম রিয়াজ শহীদ নির্দেশিত গীতি আলেখ্য ‘বকুলপুরের স্বাধীনতা, সত্যপ্রিয় চৌধুরী দোলন রচনায় ও নির্দেশনায় ‘মহারাণীর কাণ্ড’ (২০০৪), জসিম উদ্দীন রচিত ও নির্দেশিত ‘একাত্তরের শকুন’ (২০১১), ‘জাতিশত্রু, ‘দূরে আলো’, শামসুর রাহমানের ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’, কামরুল হাসানের রচনা ও নির্দেশনায় কাব্যনাটক ‘মুক্তিযুদ্ধ ফিরে ফিরে ডাকে’। আর এসব নাটক নিদের্শনা ও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন রিয়াজ শহীদ, অনিল দত্ত, লিনা বড়ুয়া, রিকা বড়ুয়া, হিমু, টুটুল পাল, সুভাশিষ বড়ুয়া পিকু, উত্তম নন্দী, জহির উদ্দিন, লিটন পাল, প্রদীপ পাল, তপন মল্লিক, তাপস মল্লিক, আবু বকর ছিদ্দিক খোকন, ফাতেমা আক্তার মার্টিন, লিটন দেবনাথ সৈকত, আবদুল নবী, মঞ্জু বড়ুয়া, শহিদুল ইসলাম সাহেদ, আবু সুফিয়ান এনাম, হারুন অর রশিদ, নারগিস আক্তার রনি, রিফাত হোসেন নির্যাস, রুনা আক্তার, কনা দাশ, লিটন কান্তি দে মিন্টু, তাকবিন আক্তার কলি, রবিউল হাসান, মরিয়ম আক্তার, মনির মোবারক, রবিউল হাসান, অজয় মজুমদার , আরিফুল করিম, উম্মে হাবিবা উর্মি, সিফাত খান শান্ত, শ্রাবণ বড়ুয়া শান্ত, শ্রাবণী দাশ শাওলি, শতাব্দী বড়ুয়া তৃষা, সিফার আরা আইয়ুব, রীমা বড়ুয়া, প্রিতম পাল প্রিতু, সুজয় পাল জিতু, নবরাজ পাল প্রিয়ন, নন্দিনী পাল প্রমুখ।
চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে হেমন্তিকা মেলা উদযাপনের সাথে জড়িত আছেন।
১৯৯৫ সালের ৫ মার্চ হেমন্তিকা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী কালকাতার ডাকুরিয়া সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী নাট্যোৎসবের সমাপ্তি দিনে ‘মলকা বানু’ নৃত্যনাট্য মঞ্চস্থ করে কলকাতার দর্শকদের নজর কাড়েন।