বন্দর নগরী

১০ লাখ টাকার ঘড়ি ফিরিয়ে দিয়ে প্রসংশায় ভাসছেন ড. অনুপম সেন

রাইজিং কক্স ডেস্ক : ১০ লাখ টাকা দামের একটি সুইজারল্যান্ডের রোলেক্স ঘড়ি উপহার পেয়েছিলেন বরেণ্য সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন। একদিন ব্যবহার করে যখন বুঝতে পারলেন এই ঘড়ির দাম ১০ লাখ টাকা, তখনই উপহারদাতাকে ঘড়িটি ফিরিয়ে দেন তিনি।

৮ বছর আগে ঘড়ি উপহার পাওয়া ও ফিরিয়ে দেওয়ার এই ঘটনা ঘটলেও সেটি নতুন করে আলোচনায় আসে শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে একটি বইয়ের বিক্রয়-উৎসব অনুষ্ঠানে।

পুস্তক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান খড়িমাটি আয়োজিত মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলামের খরস্নায়ু গ্রন্থের বিক্রয়-উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। প্রধান আলোচক প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেন।

অনুষ্ঠান শুরুর আগে দর্শকসারির প্রথম দিকে বসেছিলেন ড. অনুপম সেন। তার আশপাশে বসেন নগরের বিশিষ্টজনেরা। এসময় অনুপম সেনের পাশে বসা মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী নামে এক ব্যবসায়ী তুললেন প্রসঙ্গটি।

বললেন, অনুপম সেন স্যারকে ১০ লাখ টাকা দামের ঘড়ি দিয়েছিলাম। স্যার ঘড়িটি একদিন পর আমাকে ফেরৎ দেন। বলেছিলেন আমি বড়জোর ২শ’-৫শ’ টাকা দামের ঘড়ি পরতে পারি। ১০ লাখ টাকা দামের ঘড়ি আমার জন্য বেমানান। এসময় পাশের একজন বলে উঠেন ’দামি মানুষরা দামি জিনিস পরেন না। সেন স্যাররা সত্যিকারের দামি মানুষ।’ তারাই পারেন লোভ-লালসা, বিলাসব্যসন প্রত্যাখ্যান করতে।

রবিবার সকালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ড. অনুপম সেন স্যারের সঙ্গে এ বিষয়ে একুশে পত্রিকার কথা হয়। তিনি বলেন, ঘটনাটি অন্তত ৮-৯ বছর আগের। মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী নামের একজন ভালোবেসে ১০ লাখ টাকা দামের ঘড়িটি আমাকে উপহার দিয়েছিলেন। ঘড়িটির দাম ও অত্যাধুনিক চেহারা দেখে সাথে সাথেই আমি ফিরিয়ে দিই। উপহারদাতাকে বললাম, আপনার ভালোবাসা, অনুভূতিকে আমি সম্মান করি। কিন্তু এত দামি ঘড়ি আমার জন্য নয়। প্লিজ আপনি ঘড়িটি নিযে যান। ভদ্রলোক ঘড়িটি নিয়ে গেলেন। ওই লোক মেজর এমদাদ সাহেবকেও একটি গাড়ি উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন বলে জানান ড. অনুপম সেন।

ঘড়িটির ‍উপহারদাতা ইলেকট্রনিক পণ্য আমদানি-রপ্তানির প্রতিষ্ঠান এস এন গ্রুপ অব কোম্পানিজ-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাছের উদ্দিন চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, স্যারকে (অনুপম সেন) আমি অনেক ভালোবাসি। দীর্ঘদিন ধরে স্যার, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ও এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে আমার গভীর সম্পার্ক। সেই সম্পর্ক ও ভালোবাসার জায়গা থেকে আমি সুইজারল্যান্ডের বিখ্যাত রোলেক্স কোম্পানির ঘড়িটি দিয়েছিলাম। স্যার বিনয়ের সঙ্গে ঘড়িটি আমাকে ফেরৎ দিয়েছিলেন। প্রয়াত মহিউদ্দিন চৌধুরীর প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের লিফট বাবদ ৪১ লাখ টাকা নেননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।