১৪ বছরের বিতর্কের অবসান হয়নি কক্সবাজার শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের

নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্মাণের ১৪ বছরেও কক্সবাজার শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নিয়ে বিতর্ক কাটেনি। নির্মাণ কাজে গাফিলতি, জেলার প্রকৃত শহীদের নাম অর্ন্তভূক্ত না করা, অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা এবং এখনো আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন না হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে জন্ম দিয়েছে নানা বিতর্ক। ২০০৬ সালে কক্সবাজার জেলা পরিষদের অধীনে গণপূর্ত বিভাগ প্রায় ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার শহীদ স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়। কক্সবাজার জেলার মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদের তালিকা স্বরণীয় করে রাখতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে স্থাপিত হয় এ স্মৃতিস্তম্ভটি। এতে শুধুমাত্র ১০জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাম স্থান পেলেও স্থান হয়নি জেলার প্রথম শহীদ মুক্তিযোদ্ধাসহ অধিকাংশ শহীদের নাম। এছাড়াও ত্রুতিপূর্ণ নির্মাণকাজ এবং অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা শহীদ স্মৃতিস্তম্ভটি নিয়ে তৈরি হয় নানা বিতর্ক। এ বিতর্কের অবসান হয়নি দীর্ঘ ১৪ বছরেও। হয়নি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও। ওই স্মৃতিস্তম্ভে প্রথম থেকে যে ১০ জন শহীদের নাম অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে, তারা হলেন, শহীদ আবদুল হামিদ, গোলাম কাদের, গোলাম সাত্তার, ক্যাপ্টেন মকবুল আহমদ, সিদ্দিক আহমদ, হাবিলদার আবুল কালাম, ইজাহার মিয়া, সিপাহী লাল মোহাম্মদ, শামসুল আলম ও এস এম জাহাঙ্গীর।
অপরদিকে, স্মৃতিস্তম্ভে স্থান পায়নি কক্সবাজারের রণাঙ্গনের প্রথম শহীদ আমির হামজা, শহীদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শরীফ, শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদ সাবের, এটিএম জাফর আলম চৌধুরী, জানেন্দ্র লাল চৌধুরী, সুভাষ দাশ, সতীশ মহাজন দে, ইলিয়াছ মাস্টার, ডা. কবীর আহমদ, চট্টগ্রাম বন্দরের অস্ত্র খালাসের প্রতিবাদকালীন বাঙালি সৈনিক শহীদ গোলাম সাত্তার, সিপাহী আকতার হোসাইন, এনামুল হক, , ফরহাদ, হাবিলদার রহিম বখশ, মেছের আহমদ, জোনাব আলী, ভট্ট মহাজন, সিপাহী আবুল হোসেন, মাস্টার শাহ আলম, মাস্টার আহমদ বশির, কবির আহমদ, অজিত পাল, নির্মল ধর, মোহাম্মদ আলী, পিয়ারী মহাজন, স্বপন ভট্টাচার্য, মনিন্দ্র নাথ দে, নুর আহমদ, আবুল হোসন, দুদু মিয়া, মনীন্দ্র বড়ুয়া মনু, মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম, আবদুস সাত্তার, অনিল কান্তি দাশ, শশাংক বড়ুয়াসহ জেলার ২ শতাধিক শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাম।

কক্সবাজার গণসাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক করিম উল্লাহ ও কক্সবাজারের মুক্তিযুদ্ধের গবেষক কালাম আজাদ বলেন, নির্মাণের পর থেকে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভটি অযত্নে অবহেলায় পড়ে রয়েছে। বিশেষ করে বাদ পড়া শহীদের নাম অর্ন্তভূক্ত করার জন্য জেলার বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলন করে আসছিল। ওই সংগঠনের দাবি দাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তাড়াহুড়া করে কয়েকজন শহীদের নাম অর্ন্তভূক্ত করা হলেও এতে অনেক শহীদের নাম বাদ পড়ে যায়।

জয় বাংলা বাহিনী ৭১ এর প্রধান মুক্তিযোদ্ধা এবং কক্সবাজার ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কামাল হোসেন চৌধুরী জানান, প্রজন্মকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে এ স্মৃতিস্তম্ভটি। এতে কারও নাম থাকবে কারও নাম থাকবে না। এ রকম হলে আগামী প্রজন্ম বিভ্রান্ত হবে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে বাদ পড়া শহীদের নাম অর্ন্তভুক্ত করে অনতিবিলম্বে স্তম্ভটি উদ্বোধন করার দাবি জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন,ম ওই স্মৃতিস্তম্ভ নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। যেখানে কক্সবাজার জেলার প্রথম শহীদের নাম নেই,সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কি প্রয়োজন ছিল?
শহীদের নাম বাদ পড়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ৬ বছর আগে কক্সবাজার জেলায় শহীদের সঠিক তালিকা তৈরির জন্য তাকে প্রধান করে ৯ সদস্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। যে কমিটির উপদেষ্টা থাকবেন স্থানীয় সংসদ সদস্য,জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। কিন্তু,কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সহযোগিতাও কেউ করেননি।
কক্সবাজার জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের প্রতিষ্ঠাতা কমান্ডার নুরুল আবছার চেয়ারম্যান জানান,শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে কারো নাম থাকবে কারো নাম থাকবে না, এটা হলে ইতিহাস কখনো আমাদের ক্ষমা করবে না।
১৯৭১ সালে কক্সবাজার-বান্দরবান এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সাব সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুস সোবহান বলেন,কক্সবাজার স্মৃতিস্তম্ভ নিয়ে বিতর্ক উঠার প্রশ্নই আসে না। তার জানা মতে প্রথম থেকে তিনি যে ১০ জন শহীদের নাম পেয়েছিলেন মুলত, তাদের নামগুলো স্মৃতিস্তম্ভে অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলায় আর কোনও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আছে কিনা তার জানা নেই। যদি থেকেও থাকে,তাহলে সংশোধন করা হবে।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।