বাংলাদেশের ইস্যু

• বাংলাদেশ এমন এক দেশ, যেখানে একের পর এক ইস্যু এসে হাজির হয়। ক’দিন পর সেগুলো ‘হাওয়া’ হয়ে যায়। আবার নতুন ইস্যু তৈরি হয়।
• একেক সময় একেক ঘটনা বাংলাদেশের মানুষের সামনে আসে। এমনিতে যেকোনো ঘটনার পক্ষ-বিপক্ষ থাকে। তেমনি আমাদের দেশের মানুষও কোনো ঘটনা ঘটলে স্বভাবতই কিছু পক্ষে ও আরকিছু বিপক্ষে অবস্থান নেয়। যুক্তি উপস্থাপন করে। তর্কে জড়ায়। নিজের মতবাদকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে সবার কাছে তোলে ধরে। সবাই নানা যুক্তি দিয়ে নিজের পক্ষকে সঠিক হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করে। কিন্তু দেখা যায় যে, তাৎক্ষণিক ওই ঘটনার সঠিক তথ্যটা বেরিয়ে আনার প্রয়োজনবোধ কেউই করেন না। কারণ ওই যে বললাম, পক্ষ-বিপক্ষ ব্যাপারটা। আসলে কেউ কোনোভাবে হার মানতে চায় না। “নিজে যেটা বলছি, নিজে যে পক্ষ নিয়েছি সেটাই সঠিক” এই সিদ্ধান্তে তারা অটল থাকে।
অনেকে সত্যটা জেনেও মিথ্যার পক্ষে অবস্থান নেয়। আবার অনেকেই নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে উভয়পক্ষের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করে। কিন্তু একপর্যায়ে কিছু যুক্তি দেখে কখনো এদের পক্ষে নেয়, কখনো ওদের পক্ষ নেয়।
• মানতে কষ্ট হলেও দেশের সাম্প্রদায়িক-অসাম্প্রদায়িক ইস্যুগুলোতে ধর্মান্ধ আচরণ চোখে পড়ে। কিছু লোক ধর্মের দোহায়কে কাজে লাগায়। বিষয়গুলো স্পর্শকাতর হওয়ায় অনেকে বিবেচনা না করে তাদের পক্ষে চলে যায়। এটাকে ‘ধর্ম ভীরুর পরিচয়’ বলবে কি না আমার জানা নেই। আর পক্ষ-বিপক্ষ তো দূরের কথা, কেউ তাদের মতবাদকে অযৌক্তিক দাবি করলে চোখ বন্ধ করেই তাকে ইসলাম বিদ্বেষী বলে অ্যাখ্যা দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে অনেক লোক আছে ইসলামী দলগুলোকে ধর্মের চরম পর্যায় মনে করে। কিন্তু দিনশেষে সেগুলোও রাজনৈতিক দল। আর রাজনীতি করলেই যে কারও প্রতি আক্রমণাত্বক আচরণ করতে হবে তাও কিন্তু নয়। প্রকৃতপক্ষে, বাংলাদেশে রাজনীতি না করেও অনেক আল্লাহ্ ভীরু মানুষ এখনও খাঁটি ঈমান নিয়ে বেঁচে আছে। তাঁরা যথাযথ ধর্মচর্চা করছে। তাঁরা কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের উপর নির্ভরশীল নয়।
• দেশে পর্যায়ক্রমে আসা এসব ইস্যুগুলো আমার দেখার বাইরে নয়। বিভিন্ন ঘটনা ঘটলে সবার মতো আমারও নিজস্ব একটা মতামত দেওয়ার জায়গা সৃষ্টি হয়। তবে এক্ষেত্রে হুটহাট করে কিছু লিখে বা বলে বসি না। বড়জোর গ্রুপ আড্ডায় পরিচিতজনদের সাথে এসব ব্যাপারে কথা হয় মাঝেমধ্যে। সেখানে একেকজন একেক কথা বলে। কিন্তু আমি কোনো ঘটনা ঘটার সাথে সাথেই নিজস্ব মতবাদ প্রকাশ করি না। আগে উপলব্ধি করি। কে কোন পক্ষের হয়ে কি কথা বলছে তা দেখে বোঝার চেষ্টা করি। আসল ঘটনা জানার জন্য অপেক্ষা করি। দিনশেষে দেখা যায় অল্প দেরিতে হলেও কোনো না কোনোভাবে সত্যটা বেরিয়ে আসে। আর সেটিই আমি গ্রহণ করি।
প্রত্যেকটি ঘটনার গঠনমূলক সমালোচনাকে আমি সমর্থন করি। এতে কারও পক্ষে যাক বা বিপক্ষে। আমাদের মনে রাখা উচিত, ভুক্তভোগী হলেই যে নিরপরাধ তা কিন্তু নয়। ভুক্তভোগীও একটি ঘটনায় অপরাধ করতে পারে। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, “মানুষ কখনোই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়”।
বস্তুত,”পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকে অরাজকতা ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতে কি হবে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা জানেন।”
আলাউদ্দিন সিকদার
সংবাদকর্মী
উখিয়া, কক্সবাজার।
১১ এপ্রিল ২০২১ ইংরেজি। 
রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।