মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর দমনপীড়নে জঙ্গলে ১০ লাখ মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সেনা অভিযানের কারণে মিয়ানমারের পূর্বাঞ্চলীয় কায়াহ প্রদেশে খাদ্য ও বাসস্থান সংকটে দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছে কয়েক লাখ মানুষ।

পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ায় গণহারে মৃত্যুর আশঙ্কা করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা। বুধবার (৯ জুন) এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের হাত থেকে বাঁচতে গভীর জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছে ১০ লাখ নাগরিক।

একদিকে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ, আরেক দিকে বিদ্রোহী গোষ্ঠী দমনে সামরিক অভিযান। দুই মিলে চরম সংকটে মিয়ানমার। চলতি বছরের পহেলা ফেব্রুয়ারি অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে আসছে জান্তা সরকার।

মিয়ানমারের পূর্বাঞ্চলীয় কায়াহা, শানসহ বিভিন্ন প্রদেশে জোরদার করা হয়েছে সামরিক অভিযান। প্রতিদিনই বিমান হামলার পাশাপাশি চালানো হচ্ছে স্থল অভিযান।
জীবন বাঁচাতে পাহাড় ও গভীর জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছে কয়েক লাখ মানুষ। গৃহহারা এসব মানুষ খাদ্য, চিকিৎসা ও খাবার পানির অভাবে চরম সঙ্কটের মধ্যে রয়েছেন।
চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। বুধবার (৯ জুন) এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা জানায়, এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে শিগগিরই গণহারে মারা যেতে পারে সাধারণ মানুষ। নির্বিচারে বোমা হামলার কারণে বহু মানুষ আহত হলেও তাদের কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত কায়াহ প্রদেশে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানে প্রায় এক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আটক করা হয়েছে ৫ হাজার।

এর আগে ২০১৭ সালে মিয়ানমারের পূর্বাঞ্চলীয় রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধন চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।