রওনক জাহানের অনু কবিতা

বৃষ্টির জলে তো মেঘ ছিল, ঝরে পড়ে ডুবিয়ে দিলো চর
মেঘলা আকাশ অবিরাম কেঁদে ভিজালো তোমার ঘর।
২.
ক্ষুধার্তের সামনে খাবার সে পঁচা-বাসি যা-ই হোক
খেয়ে নেবে গোগ্রাসে, করবে না অম্ল পীড়ার অভিযোগ।
৩.
আমার জন্ম আমায় আবদ্ধ করেছে তোমার সীমার ভেতর
আমি তো ধরিত্রীর সন্তান, কোথায় আমার ন্যায্য বসতঘর?
৪.
একা এক দ্বীপ চারপাশে শুধু জল
সবুজ আর নীল তার সঙ্গী কেবল!
৫.
আকাশ কাঁদলে ভিজে যায় পুরো সামিয়ানা খোলা প্রকৃতি
আর তুমি কাঁদলে জল ছলো-ছলো চোখে ভিজে ওঠে প্রেম-প্রীতি!
৬.
প্রকৃতি আমার প্রথম প্রেমিক, কবিতা দ্বিতীয় প্রেম
দু’জনের ঘরে দীর্ঘ জীবন প্রণয়াবদ্ধ কাটিয়ে এলাম!
৭.
হায়রে শরীর, মাটির শরীর
রোগে- শোকে ভোগে অস্থির!
৮.
ভাবনার আতুরঘর হইলো মগজ
মগজ কলমে ওঠতে চাই কাগজ!
৯.
পাথর ঘষলে অগ্নি জ্বলে, জল কিন্তু নয়
সেই পাথরই ঝর্ণাধারার হয় শুদ্ধ আশ্রয়
১০.
পরীক্ষা দিতে দিতে ফল প্রত্যাশী জীবন কখন যে ফুরিয়ে যায়!
নিয়ত জীবনকে অতিক্রম করে যাওয়ার নেশা তা বুঝে ওঠা দায়।
১১.
মাতাল মরন তালহীন লয়হীন টেনে নিচ্ছে প্রাণ
কবে আসবে সে কে জানে তাই সেরে রাখি স্নান!
১২.
জীবন লিখতে বসে মৃত্যু নামালে টেনে
বেলা শেষে ভুল শুদ্ধ কে আর এতো চেনে?
১৩.
নিজেকে ভুলতে দিয়েছি তোমাতে ডুব
কবিতা আমি তোমায় ভালোবাসি খুব
১৪.
কখন যে গেল চলে বেলা কালোছায়া মেঘে মেঘে,
হঠাৎ দেখি সময় নাই আর টান পরেছে জীবনবেগে।
১৫.
তুমি ছোঁয়ে দেখেছ কখনো মনের আহত ক্ষত?
হলে দেখতে সেখানে জড়ছে কেমন বঞ্চনা শত শত।
১৬.
ফুলের ডাকে গিয়েছিলাম তার ওই সুগন্ধ সভায়
ফুলের কাছে রেখে এলাম খানিক ঘ্রাণের দায়।
১৭.
চল যাই বর্ষার বৃষ্টি হবো ঝরে ভিজে মাটিতে মিলাবো
একটানা রিঝিঝিমি সারা দুপুুর দু’পায়ে নূপুর বাজাবো।
১৮.
আমি কে এই প্রশ্ন যতবারই ওঠে অদেখা মম অন্তরালে
উত্তর আসে কেউহীন কোনো ফাঁকা আওয়াজ ধরেছ বৃথায় খুলে!
১৯.
হঠাৎ দেখি কাল একটা নীলরঙা ফুল ফুটলো সবুজ গাছে
সবুজ পাতার প্রাণের মাঝেও নীলকণ্ঠ বিষের মত আছে!
২০.
সুন্দর ভালোবাসে যে প্রাণ, তার অসুন্দরে বড় ভয়
সত্য যে করেছে গ্রহণ সে কখনো সইবে না মিথ্যার জয়।

চলবে…

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।