রোহিঙ্গাদের হাতে অপহৃত আরো এক কৃষকের লাশ উদ্ধার

ছবি: রাইজিং কক্স

তোফায়েল আহমদ : কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের হাতে অপহৃত আরো একজন কৃষকের লাশ আজ রবিবার সন্ধ্যায় গহীন পাহাড় থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। টেকনাফ থানার পুলিশ স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় পাহাড়ের পাদদেশের মাটি খুঁড়ে পুঁতে ফেলা লাশটি উদ্ধার করে।

এর আগে দুই সপ্তাহ আগে রোহিঙ্গা সশস্ত্র দস্যুদের হাতে নিহত আরো একজন কৃষকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। এ নিয়ে গত ২৮ দিনে অপহৃত দুই কৃষকের লাশ উদ্ধার করা হলো।

টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মিনাবাজার পশ্চিম ঘোনার ক্ষেতের খামার থেকে গত ২৯ এপ্রিল রাতে সশস্ত্র রোহিঙ্গারা পাহাড় থেকে নেমে এসে স্থানীয় ৬ জন কৃষককে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, এদিন রাত ৯টার দিকে পাহাড় থেকে নেমে ৬ জনের একটি অস্ত্রধারী রোহিঙ্গার দল হোয়াইক্যং মিনাবাজার পশ্চিম ঘোনার ক্ষেতের খামারে আসে।

অপহরণকারী রোহিঙ্গার দলটির নেতৃত্বে ছিল টেকনাফের পাহাড়ে অবস্থানরত সশস্ত্র রোহিঙ্গা হাকিম ডাকাত বাহিনীর প্রধান আবদুল হাকিম ডাকাত নিজেই। সশস্ত্র রোহিঙ্গারা কৃষক আবুল হাশেম ও তার দুই ছেলে জামাল এবং রিয়াজুদ্দিন, স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে শাহেদ (২৫), মৌলভী আবুল কাছিমের ছেলে আকতারুল্লাহ (২৪) ও মৃত মোহাম্মদ কাশেমের ছেলে ইদ্রিসকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

পরে অপহরণকারীরা একই রাতে এক বস্তা চালসহ অন্যান্য পণ্যের বিনিময়ে আবুল হাশেমসহ তার দুই ছেলেকে ছেড়ে দিলেও অপর তিনজনকে গহীন অরণ্যে অস্ত্রধারীরা নিয়ে যায়। ফিরে আসা অপহৃতরা জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের প্রত্যেকের কাছেই অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে। অপহরণকারীরা অপহৃত কৃষক শাহেদের মোবাইল নিয়ে তার পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে তারা তিনজনকে খুন করার হমকি প্রদান করে।

মুক্তিপণের টাকা না দেওয়ায় অপহরণের সপ্তাহ দেড়েক পর অপহৃত কৃষক আকতারুল্লাহকে গুলিতে হত্যা করে। অপহরণকারী রোহিঙ্গারা তাকে হত্যার পর তাদের পরিবারে মোবাইলে খবর দিয়ে আকতারুল্লাহর লাশ আনতে খবর দেয়। স্বজনরা টেকনাফের গহীন পাহাড়ে গিয়ে রোহিঙ্গা সশস্ত্র হাকিম বাহিনীর গুলিতে নিহত কৃষকের লাশ উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

এরপর অপহরণকারী হাকিম বাহিনীর হাতে অপহৃত কৃষক শাহেদ ও ইদ্রিস আটক রইল। অপহরণকারীর দল নানাভাবে মুক্তিপণের টাকা আদায়ের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত গত ২০ মে অপহরণকারীর দল শাহেদকে গুলিতে হত্যা করে। তাকে হত্যার পর অপর অপহৃত কৃষক ইদ্রিসকে দিয়ে পাহাড়ের মাটি খনন করায়। এরপর সেই গর্তে নিহত কৃষক শাহেদের লাশ পুঁতে ফেলা হয়।

এক সঙ্গে ৬ কৃষককে অপহরণের পর তিনজনকে মুক্তিপণের জন্য আটক রেখে একে একে দুজনকে হত্যা করে ওরা। এদিকে পুলিশ পাহাড়ে কয়েক দফা অভিযান চালিয়েও রোহিঙ্গা দুর্ধর্ষ হাকিম বাহিনীর হাকিমকে আটকে ব্যর্থ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পুলিশ-র‌্যাবের আরো অভিযানের আশংকায় হাকিম বাহিনীর ৬ সদস্য টেকনাফের গহীন পাহাড় থেকে নেমে মিয়ানমারের রাখাইনের পথে পা বাড়ায়। অপহৃত ইদ্রিস রবিবার সকালে হাকিম বাহিনীর কবল থেকে পালিয়ে এসে টেকনাফে পুলিশকে এসব তথ্য জানায়।

হাকিম বাহিনীর কবল থেকে পালিয়ে আসা ইদ্রিসের দেয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রবিবার সন্ধ্যায় পাহাড় থেকে নিহত কৃষক শাহেদের লাশও উদ্ধার করা হয়েছে। টেকনাফের হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক মশিউর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের দলটি স্থানীয় জনগনের সহযোগিতায় নিহত কৃষকের লাশ উদ্ধার করে। লাশটি কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

টেকনাফের হোয়াইক্যং কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি হারুন সিকদার জানিয়েছেন- ফিরে আসা অপহৃত কৃষক ইদ্রিস জানিয়েছে, দুর্ধর্ষ রোহিঙ্গা হাকিম বাহিনীর প্রধান আবদুল হাকিমসহ ওদের ৬ সদস্যের একটি দল সীমান্ত পাড়ি দিয়ে রাখাইনে পাড়ি জমিয়েছে। মিয়ানমারের সামরিক সরকারের অনুগত দুর্ধর্ষ হাকিম বাহিনী বাংলাদেশের সীমান্তে অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি করতেই দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।