বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত মৃধা আলাউদ্দিনের গুচ্ছ কবিতা

বেদনার নোনা জল

খুব ভোরে, আলো-আঁধারের খেলা শুরু হওয়ার
আগে। ভয়ঙ্কর বজ্রধ্বনি, হায়েনার আক্রমণ
মাটিতে রক্তের খেলা। চিৎকার আর্তনাদে ফেটে
গেল আমাদের এই মানচিত্র। সবুজ গালিচা।

আমরা হারিয়ে ফেললাম শাদা সাগর-সমুদ্র
বজ্র-নিনাদের শঙ্কাময় শব্দে প্রকম্পিত হলো
ধানমন্ডি, গলিপথÑ তরুলতা, মাটির মানুষ
সবুজ-সুন্দর গ্রাম। শেষাবধি এই বাংলাদেশ।

স্বচ্ছ জল-জনপদে নেমে এলো শূকর-শকুন
দিশাহারা দেবদারু, আমাদের মাটির ত্রিভূজ
আকাশ বিদীর্ণ করে দিগি¦দিক নেমে গেল রক্ত
সব শেষ। থেমে গেল সমুদ্র কাঁপানো কণ্ঠস্বর।

এ শোকের নেই সীমা, পরিসীমা-নেই কোনো মাত্রা
পিতাহারা জাতি ! এই নাও বেদনার নোনা জল।

মুজিবের সবুজ অরণ্য

তমস্যাচ্ছন্ন আঁধার-কালো একটি নীল ভোর এলো
আমাদের দেশে, এই পৃথিবীতে। মানুষ অবাক
হয়ে, অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে চুম্বন করল
নিজেদের সানুদেশ, অবারিত সবুজ আকাশ।
যেনো স্থিত হতে পারে, শান্ত হয় শকুন শাবক
আস্তাবলে রাখা গাধা, গর্ধব, পালিত নরপশু।
মানুষ হাসতে ভুলে গেল, নিজেদের ঘরে ফেরা
ভুলে গিয়ে দিগি¦দিক হয়ে কান্না জুড়ে দিল- কান্না।

চারিদিকে পাজরের ভাঙা শব্দ, ব্যথার পাথর
জালিমের রক্ত-খুন, নৈঃশব্দের অসীম আঁধার
পৃৃথিবীতে ফিরে এলো অসীম কুয়াশা, কুলত্যাগী
মানুষ। শান্তির পাখি উড়ে গেল কুমুদিনী কবুতর।

তবে শেষাবধি, অবশেষে জুলুমের শেষ হলো
এই বঙ্গ দেশ উঠে এলো মুজিবের সবুজ অরণ্যে।

সব শেষ হয়ে গেল

আকাশে বাতাসে ঝুলে আছে বেদনার নীল নীল
আর্তনাদ। হায়েনার জড়ীভূত জটিল চক্রান্তে
কালের করুণ সুর। পাথরে ছিল না কোনো দিল
সবকিছু, সারারাত চক্রবাণে চলে মহাভ্রান্তে।

ক্লান্তিহীন শাদা-কালো পাথরের গায়ে বিষ ঢালে
ভেসে যায় লাল রক্তে আলোড়িত কবিতার খাতা
মুক্তির সংগ্রাম ভেসে যায় বেদনার বর্বরিত কালে
অবশেষে ঝরে যায়, বনের বাহারি ঝরা পাতা।

মানুষের ভালোবাসা, উদ্বেলিত আলিঙ্গনে ধরা
হাত। নাক মুখ চোখÑ সাহসের প্রতিটি কদম
ভুলিনি আমরা, আমি। এদেশের মানুষ, আদম
সন্তান। এখন সারা দেশে, সবখানে বন্যা, খরা।

সব শেষ হয়ে গেল। শেষÑ বজ্রকণ্ঠ, চিৎকার
সবুজের জয়পালে কালো কুষ্ঠ কালবেলা-ফুৎকার।

নিয়ে আসে মুক্তি-স্বাধীনতা

উদ্যম নদীর মতো দুলে দুলে ফুলে ফুলে ওঠে
চারদিকে, অন্ধকারে ছড়ায় মুক্তির মুক্ত বাণী
ছুটে যায় ঘূণি-ঝঞ্ঝা বায়ুর মতোন স্বপ্ন-পীঠে
আকাশ-বাতাস, মেঘ কেটে আনে সাগরের পানি।

মুক্তির সংগ্রাম নিয়ে ছোটে দিনরাত পরিতুষ্ট
নাবিকের মতো টেকনাফ থেকে দূরে-তেঁতুলিয়া
হিন্দু-মুসলিমÑ ধুয়ে দ্যায় জ্বর-মহামারি-কুষ্ঠ;
বেদনায়, শৌর্যে-বীর্যে একা চলে লাফ দিয়া দিয়া।

তুলে আনে পৃথিবীতে সংগ্রামের জ্বলজ্বলে ইতিহাস
তুলে আনে তাজা তিতুমীর, হাজি শরীয়ত উল্লা
শেরে বাংলা ইলা মিত্র প্রীতিলতা- দ্রোহের প্রয়াস;
মানুষের ঘরে ঘরে খামোসের অগ্নি-বিঁষ-বল্লা।

একদিন এভাবেই নিয়ে আসে মুক্তি-স্বাধীনতা
ভালোবাসা সবখানে ঘরে পৌঁছে যায় যথাতথা।

আমার দেশে মুজিব ছিল

আমার দেশে মুজিব ছিল ফুল ফুটানো ডাল
সকালবেলার সূর্য যেমন টুকটুকে হয় লাল।

আমার দেশে মুজিব ছিল ফুল ফুটানো ডাল
সবার সেরা দেশের গানের কার্হাবারই তাল।

আমার দেশে মুজিব ছিল ফুল ফুটানো ডাল
মায়ের মতো, বাবার মতো মায়াবী এক জাল।

আমার দেশে মুজিব ছিল ফুল ফুটানো ডাল
সুমধুর এক কণ্ঠনেতা, শতাব্দীর এক কাল।

আমার দেশে মুজিব ছিল ফুল ফুটানো ডাল
ভেঙেছিল হায়েনাদের নষ্ট যত জাল।

আমার দেশে মুজিব ছিল ফুল ফুটানো ডাল
যুদ্ধ করে আনল দেশে সব সমতার তাল।

আমার দেশে মুজিব ছিল ফুল ফুটানো ডাল
এখন দেখি সবখানে আজ চালবাজিদের চাল।

এই যদি হয় দেশের ভেতর, এইখানে আর থাকব না
গুঁড়িয়ে দেব শুঁড়িখানা, রাজপ্রাসাদও রাখব না।

মুজিব সেনা

দেশটা ভেঙে সকালবেলা
করল গুঁড়া গুঁড়া,
হঠাৎ করেই ভাঙল ওরা
আমার দেশের চূড়া।

তোমার আমার রক্ত দিয়ে
সোনার বাংলা কেনা,
বাংলা আবার গড়তে হবে
কোথায় মুজিব সেনা?

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।