অবশেষে বিতর্কিত ইউএনও জিয়াউল হক মীরের কুতুবদিয়া ত্যাগ

লিটন কুতবী, কুতুবদিয়া: সম্প্রতি কুতুবদিয়া উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে ১৯২ মেট্রিক টন চাল আত্মসাতে পরোক্ষভাবে জড়িত বিতর্কিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউল হক মীর যোগদানের এক বছরের মাথায় কুতুবদিয়া ত্যাগ করেন।

তিনি কুতুবদিয়ায় যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন অনিয়ম.
-দুর্নীতিসহ অহরহ অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সরকারি বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় চেয়ারম্যানেরা ইউএনওর মিটিং বর্জন করেন। চলতি বছর গত ২১ ফেব্রুয়ারি মহান ভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুুতি সভায় চেয়ারম্যানগণ উপস্থিত না হওয়ায় তাদেরকে মিটিংয়ে প্রকাশ্যে কালপিট,রাজাকার,রাষ্ট্রদ্রোহী বলে গালি দেন। এসময় উপস্থিত কুতুবদিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ দিদারুল ফেরদাউস, কুতুবদিয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস,কে, লিটন কুতুবী প্রতিবাদ করেন। যেহেতু চেয়ারম্যানের মধ্যে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রয়েছেন।

ইউএনওর সাথে চেয়ারম্যানগণের বিরোধ চলাকালে গত ২৫ মার্চ সরকার মহামারি করোনার জন্য সারাদেশে লকডাউন ঘোষনা করেন। তখন থেকে প্রশাসনিক কাজ ও অফিস আদালত বন্ধ রাখে সরকার। এ ফাঁেক ইউএনও নিজ উদ্যোগে মহামারি করোনা সংক্রমন উপলক্ষে সেচ্চাসেবক নিয়োগ করেন। আদালত কর্তৃক নিষিদ্ধ সংগঠন জামায়াত শিবির নেতাকর্মীদের নিয়োগ দিয়ে সাধারণ মানুষের উপর নির্যাতন নিপীড়ন চালায়। এতে বিতর্কের ঝড় উঠে। এমনকি মামলা হামলায় জড়িয়ে পড়ায় এক পর্যায়ে ইউএনও নিজে সেচ্চাসেবক নিয়োগে ভুল ছিল এবং শিবির কর্মী ঘোষনা দিয়ে বহিস্কার করেন।

কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য সুজন সিকদার বলেন, বিদায়ী ইউএনও মোঃ জিয়াউল হক মীর কুতুবদিয়া দ্বীপের ৬ ইউনিয়ন থেকে ১৩৫ জন সেচ্চাসেবক নিয়োগ করে। অধিকাংশ শিবির কর্মী। এ ঘটনা বুঝতে পেরে তিনি সেচ্চাসেবক থেকে সেই সময়ে সেচ্চায় পদত্যাগ করেন। গেল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিষিদ্ধ সংগঠন জামায়াত শিবির নাশকতার পরিকল্পনায় পুলিশের তালিকায় থাকায় পালিয়ে যাওয়া শিবির কর্মীরা লকডাউনের সময় ইউএনওর ফেসবুক আইডিতে সেচ্চাসেবক নিয়োগের আহবানে সাড়া দিয়ে কুতুবদিয়ায় ডুকে পড়েন। পলাতক জামায়াত শিবির নেতাকর্মীরা কুতুবদিয়ায় অনুপ্রবেশ করে সেচ্চাসেবকে যোগ দেন। এ সব সেচ্চাসেবকদের কে সুকৌশলে সরকারি, বেসরকারি, এনজিওর বিতরণকৃত ত্রাণের সুয়োগ সুবিধা দিয়েছে। এমনকি সরকার বিপরীত কাজ করে নিজেকে খুশি মনে করেছেন ইউএনও মোঃ জিয়াউল হক মীর। করোনা মহামারীতে ঘরবন্ধি মানুষের ত্রাণ বিতরণের জন্য একাধিক এনজিও থেকে নগদ এবং চেকের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা নিয়েছেন। কিন্তুু ত্রাণ বিতরণ হয়নি। এসব বিষয়ে সরকারের বিস্বস্ত বিভাগ দূদককে তদন্তপূর্বক গবীব দূঃখী মেহনতি মানুষের প্রাপ্র্যতা ফিরিয়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

কুতুবদিয়া উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির অর্থ সম্পাদক নুরুল আমিন জানান, ২০১৯-২০২০অর্থ বছরের সাংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত কুতুবদিয়া শিল্পকলা একাডেমির ২৫ হাজার টাকার চেক চলতি বছর পাননি। পদাধিকার বলে ইউএনও কুতুবদিয়া উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি।

কুতুবদিয়ার ট্রলার ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিন জনান, ইউএনও মোঃ জিয়াউল হক মীর কুতুবদিয়ায় যোগদান করার পর সরকারি দিবসের অনুষ্টানের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে চিঠি দিয়ে চাঁদা আদায় করে। যা প্রত্যক্ষ সাক্ষী বড়ঘোপ বাজার, ধুরুং বাজার ব্যবসায়ী, জীপ মালিক সমিতি, ট্রলার মালিক, ঘাট ইজারাদারসহ সকল শ্রেণির ব্যবসায়ী থেকে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করার অহরহ অভিযোগ আছে। টার্গেট মোতাবেক চাঁদা না দিলে মোবাইল কোর্টের ভয় দেখিয়ে আদায় করেছে। কিন্তুু ব্যবসায়ী থেকে আদায়কৃত টাকা ব্যয় করতে চোখে দেখেনি কুতুবদিয়াবাসী।

এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কুতুবদিয়া দ্বীপের মানুষ সোচ্চার হওয়ায় তিনি বদলী হয়ে গত ৭ আগস্ট/২০২০ নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় চলে যান। তবে বিদায়কালে নিজ অর্থ ব্যয়ে ব্যানার ক্রেস্ট বানিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,স্কুল শিক্ষক,বিভিন্ন সংগঠন থেকে বিদায় নিয়ে ছবি তুলে চলে যান।

(রাইজিং কক্স/লিকু/কেআ/০৮ আগস্ট ২০২০)

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।