নতুন অক্সিজেনের সন্ধান

শুভংকর বড়ুয়া

মা : তোর বাবার ঔষধ শেষ, টাকা পাঠা
প্রবাসী : বেতন পেলে দ্রুত বেতন পাঠিয়ে দিব
স্ত্রীঃবাচ্চাদের কাপড় কিনে দিতে হবে, ঈদের খরচ পাঠান, ঈদ তো কাছে চলে আসছে
প্রবাসী :ঠিক আছে, আমি পাঠিয়ে দিব
দেশের সামাজিক সংগঠন : ভাইয়া কিছু গরীবদের ইফতার দিব আপনার সহযোগিতা চাই
প্রবাসী : হে দ্রুত পাঠিয়ে দিব
এভাবে চলে আমাদের প্রবাসীদের পরিবার, পরিজন, সমাজ, দেশের মানুষের নিত্যদিনের আবদার, চাহিদা পূরণে।

বাঁচার জন্য চাই,অক্সিজেন। অক্সিজেন পর্যায় সারণির গ্রুপ 16(VIA) একটি nometallic রাসায়নিক উপাদান। জীবন্ত প্রাণীর জন্য প্রয়োজনীয় একটি বর্ণহীন, স্বাদহীন এবং গন্ধহীন গ্যাস।ঠিক তেমনি বংলাদেশের অর্থনীতিতে অক্সিজেনের মতো ভূমিকা রেখে যাচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স।

চলুন পাঠক, প্রবাসী ও রেমিটেন্স নিয়ে জানতে চেষ্টা করি :-
দেশের অর্থনৈতিক চালিকা শক্তির অন্যতম একটি খাতের নাম রেমিটেন্স। বিদেশে কর্মরত কোন নাগরিক বা ব্যক্তি যখন নিজের দেশে প্রিয়জনে অর্থ স্থানান্তর করে, তখন তাকে রেমিটেন্স বলা হয়।

‘রেমিটেন্স’ শব্দটি ‘রেমিট’ শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘ফেরত পাঠানো। বাংলাদেশ পৃথিবীর একটি জনবহুল দেশ।

একটা কথা বলে রাখি :- জন সম্পদ আমাদের দেশের বড় সম্পদ। বর্তমান সময়ে মানুষ নিজের দেশ, পরিবারের উন্নত জীবনযাত্রার জন্য নিজ দেশ ছেড়ে অন্যান্য দেশ চলে যান কর্ম জীবন শুরু করতে।

আমাদের দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ যে সব দেশগুলোতে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছে তার কয়েকটি নাম হলো :- আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, মরক্কো, মালেশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, ফান্স, আমেরিকা, অষ্টেলিয়া, কানাডাতে অসংখ্য মানুষ চাকরি, ব্যবসাতে নিয়োজিত।

আমাদের প্রবাসীরা আজ শিক্ষা ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখছেন বিশ্বতে। পৃথিবীর নামি দামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে তারা ওখানে চাকরি করছেন। দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে সোচ্চার তারা। দেশের বিপদে প্রথমে তারই অর্থ দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। দেশের মধ্যে যে সব সংগঠন মানবতার কাজে নিয়োজিত তাদের এগিয়ে নিতে পর্দার আড়ালে
নিজেদের রেখে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে। প্রবাসীরা যোদ্ধা, যে যোদ্ধারা নিজের জীবন উৎর্সগ করে যাচ্ছে। শত শত অসহায় ছাত্র ছাত্রীর পড়াশোনার খরচ বহন করে যাচ্ছে পর্দার আড়ালে থেকে আমাদের প্রবাসীরা। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় কবলিত হলে এগিয়ে আসেন তারা সর্বপ্রথম। চিকিৎসার জন্য সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয়  অসহায় মানুষের জন্য। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য তারা সবার আগে এগিয়ে আসে।মহামারী করোনা ভাইরাস এ পৃথিবী আক্রান্ত, তারা দূর প্রবাসে জীবনের ঝুকি নিয়ে নিজের দেশ, পরিবার, সমাজের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আমরা বড্ড অকৃতজ্ঞ, তাদের বুঝতে চাই না। তারা বিনিময়ে তারা কিছু চাই না তারা চাই দেশের মানুষ সুখে থাকুক। আর এদিকে এত কিছু করার পর ও তারা আমাদের কাছে সামান্য সন্মান টুকু পায় না। তাদের বিভিন্ন ভাবে হেয় করি। প্রবাসী আমাদের অক্সিজেন, তাদের ত্যাগকে আমরা শ্রদ্ধা করি। পরিশেষে বলতে চাই, আমাদের মনের অহমিকা দূর করি, যা আমরা প্রবাসীদের নিয়ে হাসি তামাশা করি, এইসব থেকে নিজেদের দূরে রেখে নিজেদের আর্দশ মানুষ হিসাবে নিজেদের  গঠন করি। তাদের সবোচ্চ ভালোবাসা, শ্রদ্ধা দিয়ে তাদের মনে সুখ উৎপন্ন করি। এক একটা প্রবাসী এক একটা স্বপ্ন পূরণের বৃক্ষ। তারা নিজের স্বপ্ন পূরণের দিকে মন দিতে চাই না, তারা অন্যের স্বপ্ন পূরণে ব্যস্ত। তারা যেন দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ অন্যের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে। তারা কেমন আছে তা কেউ জানতে চাই না। দেশের মানুষ তাদের কাছে শুধু পেতে চাই। দেশের মানুষ মনে করে তারা (প্রবাসী) সেখানে এক একটা টাকার মেশিন নিয়ে বসে আছে। জয় হোক  আমাদের অক্সিজেন (প্রবাসী) ভাইদের। কোন একদিন এক কবির  একটা কবিতা চোখে
পড়ছিল, সে কবিতার দু কলম দিয়ে ইতি টানলাম–
প্রবাস মানে,  ভাগ্যের চাকা কর চেন্জ
দেশের উন্নয়নে প্রেরিত রেমিটেন্স।

লেখক: প্রভাষক, রসায়ন বিজ্ঞান,
সরকারি বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ,
উখিয়া, কক্সবাজার।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।