অস্ট্রেলিয়াকে লজ্জায় ডুবাল বাংলাদেশ

শেষ টি-টোয়েন্টিতে অজিদের ৬২ রানে অলআউট করে ৬০ রানের বিশাল জয় তুলে নিয়ে টাইগারদের উল্লাস। ছবি: আইসিসি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাংলাদেশের দেওয়া ১২৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৬২ রানেই গুঁটিয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া। ফলে ৬০ রানের বিশাল জয় নিয়ে সিরিজ শেষ করল স্বাগতিকরা। এ জয়ে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিল বাংলাদেশ।

এ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে লজ্জার এক রেকর্ড উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ। টি-টুয়েন্টিতে এটি অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিন্ম সংগ্রহ। এর আগে ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সাউদাম্পটনে ৭৯ রানে অল-আউট হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। এতদিন টি-টুয়েন্টিতে এটিই ছিল তাদের সর্বনিম্ন স্কোর।

আগের ম্যাচে সাকিবের এক ওভারে মেরেছিলেন পাঁচ ছক্কা। আর তাই এ ম্যাচে ওপেনিংয়ে ব্যাটিংয়ে নামানো হয়েছিল ড্যান ক্রিস্টায়ানকে। তবে এদিন ভয়ঙ্কর হওয়ার আগেই তাকে সাজঘরে ফেরান স্পিনার নাসুম আহমেদ।

দলের দ্বিতীয় ও নিজের প্রথম ওভারের প্রথম বলেই সাফল্য পান নাসুম। ক্রিস্টিয়ানকে সরাসরি বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান তিনি।

এরপর নিজের দ্বিতীয় ওভারে আবারও আঘাত হানেন নাসুম। এবার তার শিকার সিরিজের অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটসম্যান মিচেল মার্শ।

এরপর ৩৮ রানে ব্রেকথ্রু এনে দেন সাকিব আল হাসান। তার শিকার ২২ রান করা ম্যাথিউ ওয়েড। দলীয় ৪৮ রানে বেন ম্যাকডারমটকে আউট করে উইকেট উৎসবে যোগ দেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। ১১তম ওভারের তৃতীয় ও পঞ্চম বলে মোয়েজেস এনরিকেস ও অ্যালেক্স ক্যারিকে আউট করে সুযোগ পেয়েই কাজে লাগান সাইফউদ্দিন।

শেষদিকে অজিদের ব্যাটিং লাইনআপে ধ্বংসযজ্ঞ চালান সাকিব। অ্যাস্টন টার্নারকে আউট করে আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে নিজের ১০০তম উইকেট শিকারের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এরপর শিকার করেন আরও দুই উইকেট। বাকি এক উইকেট নেন সাইফউদ্দিন। ১৪ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়েছে সফরকারী দলটি। ১৩.৪ ওভারেই গুঁটিয়ে যায় তারা।

৩.৪ ওভারে ৯ রানে ৪ উইকেট নেন সাকিব। ৩ ওভারে ১২ রানে ৩ উইকেট নেন সাইফউদ্দিন।

এর আগে, দিন টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এ নিয়ে সিরিজে চতুর্থবারের মতো আগে ব্যাট করল বাংলাদেশ।

পুরো সিরিজে টানা ব্যর্থতার কারণে একাদশে থাকলেও শেষ ম্যাচে ওপেনিংয়ে জায়গা হারান সৌম্য সরকার। তার পরিবর্তে নাঈমের সঙ্গে জুটি বাঁধেন মেহেদী।

এদিন ভালো সূচনা এনে দেয় বাংলাদেশের নতুন ওপেনিং জুটি। এ জুটিতে স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৪২ রান। সিরিজে এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটি। টার্নারের বলে ১২ বলে ১৩ রান করে মেহেদী আউট হলে ভাঙে এ জুটি।

এরপর স্কোরবোর্ডে আর ১৩ রান জমা হতেই ফিরে যান আরেক ওপেনার নাঈম। নাঈমকে হারানর ধাক্কা সামলে নেওয়ার আগেই ফিরে যান সাকবি। ৬০ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট হারানো বাংলাদেশের হাল ধরেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। সৌম্যকে সঙ্গে নিয়ে স্কোরবোর্ডে আরও ২৪ রান যোগ করেন তিনি। তবে ১৪ বলে ১৯ রান করে তিনিও সাজঘরে ফিরে গেলে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।

মিডল অর্ডারে ব্যাটিংয়ে নেমে ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দেন সৌম্য। তবে বেশিদূর যেতে পারেননি তিনি। দলীয় ৯৬ রানে এক ছয় ও চারে ১৬ রান করেন তিনি। সিরিজে এটিই সৌম্যের সর্বোচ্চ ইনিংস।

সৌম্য আউট হলেও আফিফ ও সোহান বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। ক্রিজে এসে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের ইঙ্গিত দেন আফিফ। ১৫ ওভারে স্কোরবোর্ডে ৫ উইকেটে ১০২ রান জমা হওয়ায় এ সিরিজের সর্বোচ্চ দলীয় ইনিংসের স্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ। আগের সর্বোচ্চ দলীয় ইনিংসটি ছিল ১৩১ রানের। সিরিজের প্রথম ম্যাচে আগে ব্যাট করে যা বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছিল।

তবে শেষ পাঁচ ওভারে ছন্দপতন হওয়ায় সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। এ ৩০ বলে বাংলাদেশ স্কোরবোর্ডে জমা করতে পেরেছে ২২ রান, হারিয়েছে ৩ উইকেট। ফলে ১২২ রানেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় স্বাগতিকদের।

সফরকারীদের পক্ষে ২টি করে উইকেট শিকার করেন নেইথান এলিস ও ড্যান ক্রিস্টিয়ান।

ব্যাটিংয়ে ১১ রান বোলিংয়ে মাত্র ৯ রান দিয়ে ৪ উইকেটে শিকার করে হয়েছেন ম্যাচ সেরা। এবং সিরিজের পাঁচ ম্যাচে ৭ উইকেট ও ১১৪ কারায় সিরিজ সেরা হয়েছেন সাকিব আল হাসান।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।