রেকর্ড গড়ে নিউজিল্যান্ডকে হারালো বাংলাদেশ

ফাইল ছবি

ক্রীড়া ডেস্ক : টি-টুয়েন্টিতে নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মতো পরাশক্তিকে ৬২ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার নিউজিল্যান্ডকে একই মাঠে (শেরে বাংলায়) টাইগাররা দিলো ৬০ রানের লজ্জা। শুধু তাই নয় এই প্রথম নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টিতে জিতল তারা। পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে ৭ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল।

তিন ওভারের মধ্যেই দুই ওপেনারের বিদায়ের পর সাকিব আর মুশফিক মিলে ধীরেসুস্থে জুটি গড়ছিলেন। লক্ষ্য তো আর তেমন বড় নয়, এখানে আক্রমণাত্মক হওয়ারও দরকার নেই। ৭ রানে ২ উইকেটে হারানো বাংলাদেশকে ৯ ওভার শেষে লক্ষ্যের মাঝপথ পেরিয়ে নিয়ে যান দুজন। দশম ওভারের প্রথম বলে রচিন রবীন্দ্রকে চার মেরে সাকিব পৌঁছে যান ২৫ রানে।

কিন্তু সে-ই শেষ! ওভারের পঞ্চম বলে লেট কাট করতে চেয়েছিলেন সাকিব, কিন্তু বল তাঁর ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটের পেছনে ক্যাচ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রবীন্দ্রর প্রথম শিকার হয়ে সাকিব ফিরলেন ৩৩ বলে ২৫ রান করে।

এরআগে এজাজ প্যাটেলের ঝুলিয়ে দেওয়া বলে বেশ খানিকটা আগবাড়িয়ে ড্রাইভ করতে গিয়ে মিস করেছিলেন লিটন দাস। তবে চলে গিয়েছিলেন ক্রিজের বাইরে। স্টাম্প ভাঙতে ভুল হয়নি টম ল্যাথামের। স্টাম্পড হওয়ার আগে লিটন করেছেন ১ রান, ৭ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর কোল ম্যাককনকির একই বলে আগবাড়িয়ে খেলতে গিয়ে কাভারে হেনরি নিকোলসের হাতে ধরা পড়লেন নাঈম। দ্বিতীয় ওভারেই প্রথম ব্রেক থ্রু-র দেখা পায় নিউজিল্যান্ড। অভিষেকে প্রথম বলেই উইকেট ম্যাককনকির। ব্যাটিংয়ে শূন্যতে ফিরেছিলেন, বোলিংয়ে প্রথম বলে উইকেট- অভিষেকটা ম্যাককনকির হল মনে রাখার মতোই!

এর আগে টস ভাগ্য কথা বলে নিউজিল্যান্ডের হয়ে। আগে ব্যাট করার সিদ্ধন্ত নেয় তারা। শেখ মেহেদী হাসান অফ স্পিনে শুরুতেই সাফল্যও এনে দেন। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ফেরান অভিষিক্ত রাচিন রবীন্দ্রকে। গুড লেংথের বলে কোন রান করেই দিয়েছেন ফিরতি ক্যাচ। মেহেদীর দেখানো পথে হেঁটেছেন বাংলাদেশের দুই বাঁহাতি স্পিনার সাকিব ও নাসুম। রবীন্দ্রকে অনুসরণ করেছে নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডার। তাতেই স্পিন বিষে পুড়ে ছারখার কিউইরা।

স্পিনারদের করা প্রথম ৫ ওভারে ১০ রান তুলতেই তারা হারিয়ে বসে ৪ উইকেট। দলীয় ৭ রানে উইল ইয়াং ৫ রানের ব্যাট করার সময় সাকিবের বেশ বাইরের নিচু হওয়া বল টেনে আনেন স্টাম্পে। নাসুমের করা ইনিংসে চতুর্থ ওভারে ১ রানের ব্যবধানে ফেরেন কলিন ডি গ্রান্ডহোম (১) ও টম ব্লান্ডেল (২)। ৬ষ্ঠ ওভারে আক্রমণে আসা মুস্তাফিজুর রহমান ৮ রান খরচ করলে পাওয়ার প্লেতে ৪ উইকেট হারিয়ে কিউদের সংগ্রহ ১৮ রান।

৯ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক টম লাথাম ও হেনরি নিকোলস যোগ করেন ৩৪ রান। তবে সাইফউদ্দিনের শর্ট বলে পুল খেলতে গিয়ে লাথাম ফাইন লেগে ক্যাচ দেন নাসুমকে। ২৫ বলে ১৮ রান করে আউট হন তিনি। সাকিবের করা পরের ওভারেই অভিষিক্ত কোল ম্যাককোনক ফেরেন শূন্য হাতে। ফলে নিউজিল্যান্ডের দুই অভিষিক্তই রানের খাতা খুলতে পারেননি।

ক্রিজে থিতু হয়ে ফিরেছেন হেনরি নিকোলসও (১৮), ৪৯ রানে ৭ উইকেট নেই সফরকারীদের। এরপর নিজের দ্বিতীয় স্পেল করতে এসে সফরকারীদের শেষ ৩ উইকেট নিজের পকেটে ঢুকান মুস্তাফিজ। তাতে ৬০ রানেই থামতে হয় টম লাথামদের। ১৩ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৩ উইকেট মুস্তাফিজের। ৪ ওভারে ১০ রান খরচায় সাকিবের শিকার ২ টি, সাইফউদ্দিন ও নাসুমও তুলে নেন সমান সংখ্যক উইকেট।

অবশেষে ৫ ওভার হাতে রেখে ৭ উইকেটের সহজ জয়ই পেয়েছে বাংলাদেশ। যে জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজের ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। এটিই বাংলাদেশের টি-টুয়েন্টি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডবধ। এর আগে দশ ম্যাচের প্রতিটিতেই হার দেখতে হয়েছিল টাইগারদের।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।