২৬ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে ইউজিসির সতর্কতা

অনলাইন ডেস্ক : দেশের ২৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেরই বোর্ড অব ট্রাস্টিজের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও আদালতে একাধিক মামলা চলছে। কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আদালতের স্থগিতাদেশে পরিচালিত।

কেউ আবার অনুমোদিত শিক্ষা প্রোগ্রামের বাইরেও প্রোগ্রাম চালাচ্ছে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় সরকার অনুমোদন দিলেও এখনো শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি দেওয়া হয়নি। এসব তথ্য দিয়ে ভর্তি–ইচ্ছুকদের সতর্ক করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে এ সতর্কতা জারি করে ইউজিসি।

এদিকে এসব বিশ্ববিদ্যালয়কে একাধিকবার সতর্ক ও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় বলে গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

ইউজিসি জানায়, শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়ে প্রতারিত হলে কিংবা পরে আইনগত সমস্যায় পড়লে, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করা হলে অথবা সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রাম বাতিল হলে বা অতিরিক্ত আসনে ভর্তি হওয়ায় সনদ বাতিল হলে এর দায়ভার ইউজিসি নেবে না

অপরদিকে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে ইউজিসির ওয়েবসাইট থেকে অনুমোদিত ক্যাম্পাস এবং অনুমোদিত প্রোগ্রামে নির্ধারিত আসন সংখ্যার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে দেশে ১০৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৯টিতে এখনও শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হয়নি। বাকি ৯৯টিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে।

প্রশ্নবিদ্ধ ২৬ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম:

ইউজিসির তথ্য অনুসারে একেকটি বিশ্ববিদ্যালয় একেক ধরনের সঙ্কটে আছে। এর মধ্যে ৬টি বিশ্ববিদ্যালয় সরকার অনুমোদন দিলেও এখনো শিক্ষার্থী ভর্তি করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- রূপায়ণ এ কে এম শামসুজ্জোহা বিশ্ববিদ্যালয় (নারায়ণগঞ্জ), রাজশাহীর আহছানিয়া মিশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহ মখদুম ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটি, খুলনা খান বাহাদুর আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকার মাইক্রোল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ও সদ্য অনুমোদন পাওয়া কিশোরগঞ্জের শেখ হাসিনা ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি।

এদিকে দুই ভাগে বিভক্ত ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয় অবৈধভাবে ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে। এছাড়া বন্ধ করে দেওয়া আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিকে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনায় পুনরায় অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে না পারায় কুইন্স ইউনিভার্সিটি বন্ধ রেখেছে সরকার। নানা অভিযোগে বন্ধ করে দেওয়া দি ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লাকেও অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ৭টি প্রোগ্রামে ২০২১ সালের স্প্রিং সেমিস্টার থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ থাকবে বলে জানায় ইউজিসি।

টাইমস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ২০১৫ সালে ১০টি প্রোগ্রামের অনুমোদন পাওয়ার আগেই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করায় এ বিষয়ে মামলা চলছে। ইউজিসি জানায়, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং ফরিদপুর জেলা প্রশাসন থেকে আসা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি দেশে ২০১৭ সালে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছিল ইউজিসি। আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় ২০১৯ সালে তা প্রত্যাহার করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি প্রোগামে ২০১৯ সালে স্থগিতাদেশ দেয় আদালত। প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির সাবেক বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যানের অর্থ আত্নসাতের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দুদকে পাঠানোর তথ্যও দিয়েছে ইউজিসি।

ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এবং সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে বলে জানায় ইউজিসি।

আরও পড়ুন: কলেজের নামের সাথে ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ শব্দ ব্যবহার করা যাবে না

ইবাইস ইউনিভার্সিটি, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ও কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পরিচালনা কর্তৃপক্ষ নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে এবং আদালতে মামলা চলছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, জেড এইচ সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি অননুমোদিত প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে।

এছাড়া দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় আদালতের আদেশে বন্ধ রয়েছে। সূত্র: দৈনিক অধিকার

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।