মনের দূষণ বন্ধ করি

শুভংকর বড়ুয়া

শুভংকর বড়ুয়া

আমাদের সমস্যা কম বেশি আমরা নিজেরাই তৈরি করি। সব সমস্যার পেছনে আমাদের প্রত্যক্ষ -পরোক্ষভাবে হাত রয়েছে।

আমাদের চারিপাশে দূষণের ছড়াছড়ি। শব্দ দূষণ, বায়ু দূষণ, পরিবেশ দূষণ, অর্থনৈতিক দূষণ, স্বভাব দূষণ, রাজনৈতিক দূষণ সহ যত দূষণ হচ্ছে সব দূষণের মূল হচ্ছে মনের দূষণ।

মনের দ্বারা অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের প্রিয় বিষয় উপস্থিত হলে হৃদপিণ্ডে সুখ-সৌমনস্য বেদনা, লোভ, আসক্তি উৎপন্ন হয়। ঠিক বিপরীত দিকে চিন্তা করলে, অপ্রিয় বিষয় উপস্থিত হলে দুঃখ-দৌর্মনস্য বেদনা ক্রোধ, দ্বেষ, হিংসা উৎপন্ন হয়।

আমাদের বড় দূষণ তৈরির কারখানা হচ্ছে আমাদের মনে ও চিন্তায়। মন যদি দূষণমুক্ত হয়ে যায় তাহলে সব কিছুই দূষণমুক্ত হয়ে য়ায়। ঠিক বিপরীতভাবে চিন্তা করলে, যদি দূষণ মুক্ত না হয়, আমরা যতই চিল্লাচিল্লি করি না কেন দূষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। মন যখন দূষিত হয় কোনো কারণে, তখন দেহ হয়ে ওঠে রোগের বিচরণ ক্ষেত্র।

বোখারী শরীফের হাদীসে বলা হয়েছে –

“মানুষের শরীরে এক টুকরা মাংসপিন্ড আছে, যা ভালো থাকলে শরীর ভালো থাকে, আবার তা যদি দূষিত হয়ে পড়লে সমস্ত শরীর খারাপ হয়ে যায়।”

একটা উপমা দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করছিঃ-
একটা সময় মায়ের কাছে ছেলে সন্তান প্রিয় ছিল। বর্তমানে মায়ের প্রিয় হয়ে ওঠেছে তার কন্যা সন্তান। মেয়েরা তাদের মায়ের সুখের সাথী হয়ে ওঠেছে। নিজের মেয়ের সঙ্গে মায়ের বিভিন্ন কারণেই খুনসুটি হয়। কখনো মান- অভিমানও হয়। সেটা কোন বিষয় না। বিপরীত দিকে চিন্তা করি, পরের ঘরের মেয়ে যখন বৌ হয়ে আসে, তার সামান্য কথাও সহ্য করতে প্রস্তুত নয় শ্বশুর -শাশুড়ি। বৌমা তখন বোমা হিসাবে পরিচিত হয়। মেয়ে আচরণ আদরের শত অপরাধ করলেও আর বৌমা করলে বেয়াদব হিসাবে পরিচিতি পায়। এমন অনেক উপমা আছে নিজের হলে সব মাপ,অপরের হলে যত দোষ। আসলে সবটা আমাদের মনের দোষ। মনের ভিতর ময়লায় ভরে রাখছি।

পরিশেষে বলতে চাই, দূষিত এই বিশ্বটাকে যদি মুক্ত করতে চাই, তাহলে মনের দূষণ বন্ধ করে বিশুদ্ধ ধরা বানাতে হবে। আমরা ইচ্ছা করে মনের দূষণ করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে গিয়ে, অন্যের ক্ষতি সাধন করে যাচ্ছি। তখন নিজের কুঠারই আপন পায়ে পড়ে, জীবন তখন খুব অসহায় হয়ে পড়ে। একটাই কামনা
” আসুক সচেতনতা
হোক পৃথিবী বিশুদ্ধতা ”

লেখক : তরুণ কলামিস্ট
উখিয়া, কক্সবাজার।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।