ভারতকে রুখে দিলো ১০ জনের বাংলাদেশ

ম্যাচের একটি দৃশ্য। ছবি: বাফুফে

ক্রীড়া ডেস্ক : দুর্দান্ত, অবিশ্বাস্য…। ইচ্ছা করলে আরও দু-একটা বিশেষণ যোগ করা যায়। যেভাবে পিছিয়ে পড়েও এক খেলোয়াড় কম নিয়ে ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ল বাংলাদেশ, এই ড্রয়ের মাহাত্ম্য তো জয়ের সমানই। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের প্রবাসী সমর্থকেরা উচ্ছ্বাস করতে করতে মালে জাতীয় স্টেডিয়াম ছাড়লেন। তাঁদের চেহারা দেখেই স্পষ্ট, জয়ের আনন্দ নিয়েই মাঠ ছেড়েছেন তাঁরা।

আগের ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট। ভারতের বিপক্ষে লক্ষ্যটা ছিল হার এড়ানো। সেটা পেয়ে যাওয়াতে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশই এখন পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। ১০ খেলোয়াড় নিয়ে ড্র পাওয়াটা নিশ্চিতভাবে ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশের মনোবল বাড়িয়ে দেবে অনেক।

আগের ম্যাচের থেকে দুটি পরিবর্তন নিয়ে একাদশ সাজিয়েছিলেন অস্কার ব্রুজোন। রাইট উইঙ্গার জুয়েল রানার জায়গায় সাদ উদ্দিন ও সুমন রেজার জায়গায় মতিন মিয়া। তবে ফরমেশন রেখেছিলেন আগের ম্যাচের ন্যায় ৪-১-৪-১। প্রচুরসংখ্যক প্রবাসী দর্শক মাঠে এসে ‘বাংলাদেশ’, ‘বাংলাদেশ’ বলে জামাল ভূঁইয়াদের অনুপ্রেরণা জুগিয়ে গেলেন। প্রথমার্ধে গোল খাওয়ায় মন খারাপ হলো। কিন্তু দিন শেষে দুর্দান্ত এক ফুটবল দেখার আনন্দ নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন তাঁরা।

ম্যাচটি কি ভারতের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, না সুনীল ছেত্রী?

ছেত্রীর নামটি এমনভাবে জপেছেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা, ভারত আড়ালে পড়ে গিয়ে মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছেত্রীই। কেন ছেত্রীকে এত সমীহ করা, সেটা ভারতের অধিনায়ক প্রমাণও করেছেন ২৭ মিনিটেই। রাইট উইঙ্গার উদান্ত সিংয়ের কাটব্যাক থেকে গোলমুখে পা ছুঁয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন ভারত অধিনায়ক। তাঁকে দেখে রাখার কাজে একদম ব্যর্থ হয়েছেন তপু ও জামাল। ৪-৩-৩ ফরমেশনে আজ অনেকটা ফ্রি রোলে খেলেছেন ছেত্রী।

ম্যাচটিকে আলাদাভাবে দুই অর্ধে ভাগ করলে প্রথমার্ধে বাংলাদেশ ও ভারত একটি করে পরিষ্কার সুযোগ পেয়েছে। ছেত্রী গোল করে সে সুযোগ লুফে নিলেও বাংলাদেশ ব্যর্থ। গোল ছাড়াও ম্যাচে পরিষ্কারভাবে বলের দখলে অনেক এগিয়ে ছিল ভারত। প্রথমার্ধের ২০ মিনিট শেষে ৬৮ শতাংশ বলের দখল ছিল ভারতের। প্রথমার্ধ শেষে দল দখলে ভারতের ভাগ ৬৬, বাংলাদেশ ৩৪। তবু ম্যাচের ৩৯ মিনিটে গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। প্রতি–আক্রমণ থেকে মতিন, সাদ ও বিপলুর রসায়নে গোলের সহজ সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। সাদের পাসে বক্সের মধ্যে বিপলুর নেওয়া শট রক্ষা করেন গুরপ্রীত সিং।

দ্বিতীয়ার্ধে পুরো প্রেসিং ফুটবল খেলতে শুরু করে ভারত। গোল পরিশোধে বাংলাদেশও ছিল মরিয়া। ৫২ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি নষ্ট করেন রাকিব হোসেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এমন গোল মিস মানা যায় না। সাদ উদ্দিনের কাটব্যাক থেকে গোলমুখে আনমার্কড ছিলেন রাকিব। বলটা পোস্টেই রাখতে পারলেন না এই উইঙ্গার। উল্টো পরের মিনিটেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়ে বাংলাদেশকে বিপদে ফেলে দেন বিশ্বনাথ ঘোষ। কিন্তু এক খেলোয়াড় কম নিয়েই যেন বেশি ভালো খেলল বাংলাদেশ। অন্তত অস্কার ব্রুজোনের শিষ্যদের খেলা দেখে মনে হয়নি, এক খেলোয়াড় কম নিয়ে খেলছেন তাঁরা।

বাকিটা সময় একজন কম নিয়েই দাঁতে দাঁত চেপে লড়েছেন তপু বর্মণ, ইয়াসিন আরাফাতরা। ৭৪ মিনিটে গোল করে বাংলাদেশকে সমতায় ফেরান লেফটব্যাক ইয়াসিন। জার্মালের কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে কাছের পোস্ট থেকে ফ্লিক করেন সাদ উদ্দিন। সে বলে দূরের পোস্ট থেকে মাথা ছুঁয়ে গোলটি করেন ইয়াসিন। ৭ অক্টোবর পরবর্তী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ মালদ্বীপ।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।