রামুতে মেম্বার প্রার্থী ইয়াবসহ আটক

অনলাইন ডেস্ক : তিনি দিনে থাকেন ইয়াবা কারবারে আর রাতে ভোটের জন্য যান ঘরে ঘরে। ইয়াবা কারবারের টাকায় ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার পদে ভোটে নেমেছেন তিনি। ভোটের ক্যাম্পেইনে যাবতীয় খরচও করছেন ইয়াবা কারবারের টাকায়।

শুক্রবার (৫ নভেম্বর) দুই হাজার পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে আটক হ‌ওয়ার পর বিজিবি সদস্যদের নিকট তিনি এসব জানান।

আটক হওয়া ইয়াবা কারবারির নাম মোহাম্মদ ইকবাল। তিনি কক্সবাজারের রামু উপজেলার ফতেখারকুল ইউনিয়নের মধ্যম মেরুংলোয়া গ্রামের মৃত হাজী মোহাম্মদ শফির ছেলে। উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একজন মেম্বার প্রার্থী। আগামী ১১ নভেম্বর ইউনিয়নের ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্টে শুক্রবার একটি সিএনজিসহ উক্ত মেম্বার প্রার্থী বিজিবি সদস্যদের তল্লাশিকালে দুই হাজার পিস ইয়াবাসহ ধরা পড়েন। রামু ৩০ বিজিবি জেসিও সুবেদার মাহমুদুল হাসান জানান, বালুখালী থেকে এ পরিমাণ ইয়াবা তিনি বহন করে আনছিলেন। রামুতেই ক্রেতারা অপেক্ষায় থাকেন ইয়াবার চালান নেওয়ার জন্য।

কিস্তিতে তিনি একটি সিএনজি ট্যাক্সি কিনেছেন। সেই ট্যাক্সি নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন ইয়াবার কারবার। ইয়াবা জগতের সঙ্গে থেকে প্রচুর টাকার মালিকও হয়েছেন ইতিমধ্যে। তাই জনপ্রতিনিধি হওয়ার খায়েশও জাগে তার। তিনি ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী। তার প্রতীক ফুটবল। দিনের বেলায় তিনি ভোটের ক্যাম্পেইন করার সময় পান না। কেননা দিনে তিনি ব্যস্ত সময় কাটান ইয়াবার চালান পরিবহনে।

রোহিঙ্গা শিবির থেকে চালানে চালানে আনেন ইয়াবা। রামুতে অপেক্ষায় থাকা কারবারিদের কাছে বিক্রি করে রাতের বেলায় তিনি ভোটারদের ঘরে ঘরে একটি ভোটের জন্য ছুটেন। তার প্রতিশ্রুতি হচ্ছে- তিনি মেম্বার নির্বাচিত হলে এলাকা থেকে ইয়াবা কারবারিদের নির্মূল করবেন। সেই ইয়াবা কারবারি হাতেনাতে ধরা পড়ার পর ভোটের মাঠে শুরু হয়েছে তুমুল হাসাহাসি। এ ব্যাপারে রামু থানায় রাতে মাদক মামলা রুজু করা হয়েছে।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।