দক্ষিণ এশিয়ার স্কুলগুলো খুলে দেয়ার আহ্বান ইউনিসেফের

ফুল হাতে উচ্ছ্বাসিত বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

রাইজিং কক্স ডেস্ক : করোনা মহামারির জেরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে স্কুল। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছে এ অঞ্চলের ৪০ কোটির বেশি শিশু। এমন পরিস্থিতিতে স্কুলগুলো পুরোপুরি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ। ইউনিসেফের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার খবরে বলা হয়, করোনার কারণে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় স্কুল বন্ধ রাখা দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। মহামারি শুরুর পর থেকে বাংলাদেশের স্কুলগুলো প্রায় ১৮ মাস বন্ধ ছিল।
অপর দিকে ২০২০ সালের মার্চ থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোতে গড়ে সাড়ে ৩১ সপ্তাহ স্কুল বন্ধ রাখা হয়।
এ বিষয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির সঙ্গে কথা বলেছেন ইউনিসেফের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক জর্জ লারইয়া-আজি। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এমন এক অঞ্চলে স্কুল বন্ধ রয়েছে, যেখানে দূর থেকে শিক্ষা গ্রহণের শক্তিশালী কোনো ব্যবস্থা নেই। ইন্টারনেট ও প্রযুক্তিগত ডিভাইসগুলো মানুষের হাতের নাগালের অনেকটাই বাইরে। এর ফলে সেখানে শিক্ষার বড় ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এর বড় ভুক্তভোগী হচ্ছেন দরিদ্র পরিবারের শিশু ও মেয়েশিশুরা। কারণ, পুরুষেরা প্রযুক্তির প্রতি বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।
এ অবস্থায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সরকারের প্রতি ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সশরীর উপস্থিত থেকে পড়াশোনা চালু করার আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ। সংস্থাটি ক্লাসে শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও জোর দিয়েছে।

জর্জ লারইয়া-আজি সতর্ক করে বলেন, স্কুল বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে নিষ্ক্রিয়তা দেখা দিচ্ছে, তার জেরে কয়েক বছরের মধ্যে দুর্বল জনশক্তি সৃষ্টি হতে পারে। এর ফলাফল হবে দীর্ঘমেয়াদি।

এদিকে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোর তথ্য বলছে, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও আফগানিস্তানের স্কুলগুলো আংশিক খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানে পুরোদমে ক্লাস চলছে।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।