অপহৃত ৩ স্কুলছাত্রকে লেদা রোহিঙ্গা শিবির থেকে উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক : কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাতে অপহরণের শিকার চার স্কুলছাত্রের তিনজনকে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অপহরণের চতুর্থ দিনে আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা শিবিরের পার্শ্ববর্তী পাহাড় থেকে ওই শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার স্কুলছাত্ররা হলো রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের প্যাঁচারদ্বীপের মংলা পাড়ার আবদুস সালামের ছেলে জাহেদুল ইসলাম (১৬), আবদুর রহিমের ছেলে মোহাম্মদ কায়সার (১৪) এবং ফরিদ আলমের ছেলে মিজানুর রহমান নয়ন (১৪)। নিখোঁজ রয়েছে একই গ্রামের মো. আলমের ছেলে মিজানুর রহমান (১৪)। তাদের মধ্যে জাহেদুল সোনারপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের দশম এবং অপর তিনজন একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনজনের মধ্যে র‍্যাব উদ্ধার করে কায়সারকে। আর নয়ন ও জাহেদুলকে উদ্ধার করে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।
র‍্যাব-১৫ কক্সবাজারের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু সালাম চৌধুরী বলেন, নিখোঁজ স্কুলছাত্র মিজানুর রহমানকে উদ্ধার এবং অপহরণকারীদের ধরতে পাহাড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
অপহৃত শিক্ষার্থীদের পরিবার জানায়, সর্বশেষ ৮ ডিসেম্বর রাতে অপরিচিত একটি মুঠোফোন নম্বর থেকে স্বজনদের কাছে ফোন করে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। মুক্তিপণ না মিললে শিক্ষার্থীদের হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়। এর পর থেকে ওই মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তিনজনের মধ্যে র‍্যাব উদ্ধার করে কায়সারকে। আর নয়ন ও জাহেদুলকে উদ্ধার করে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এখনো নিখোঁজ রয়েছে একই গ্রামের মো. মিজানুর রহমান (১৪)
উদ্ধার স্কুলছাত্র মোহাম্মদ কায়সারের চাচা মোহাম্মদ তাহের বলেন, ৭ ডিসেম্বর সকালে রোহিঙ্গা ইব্রাহীম ও জাহাঙ্গীর ওই চার স্কুলছাত্রকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বেড়াতে নেওয়ার কথা বলে সন্ত্রাসী চক্রের হাতে তুলে দেন।
রামু খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. সোহেল বলেন, জাহাঙ্গীর ও ইব্রাহীম টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শিবিরের (ক্যাম্প-২৬) সি ব্লকের বাসিন্দা। তাঁরা কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের প্যাঁচারদ্বীপ এলাকার বাতিঘর নামে একটি কটেজের কর্মচারী।
পুলিশ ও পরিবার সূত্র জানায়, জাহাঙ্গীর আলম ও ইব্রাহীমের সঙ্গে পরিচয় হয় চার স্কুলছাত্রের। সে সুবাদে ৭ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে চারজনকে সেন্ট মার্টিন বেড়াতে নেওয়ার কথা বলে টেকনাফের হোয়াইক্যং বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান জাহাঙ্গীর ও ইব্রাহীম। সেখান থেকে কুদুমগুহা দেখার কথা বলে হোয়াইক্যং জঙ্গলের দিকে নিয়ে যান। এর পর থেকে চার শিক্ষার্থীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পাহাড়ের বিভিন্ন আস্তানায় হাকিম ডাকাতসহ রোহিঙ্গাদের একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনীর আস্তানা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
রোহিঙ্গা শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৬ এপিবিএন অধিনায়ক ও পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম তারিক বলেন, শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুক্রবার সকালে টেকনাফের মুচনী ক্যাম্পের এইচ-৪ ব্লকে অভিযান চালিয়ে রোহিঙ্গা নুর সালাম (৫৫), তাঁর মেয়ে রনজন বিবি (১৭) ও আরেক রোহিঙ্গা সাদ্দাম মিয়াকে (৪০) আটক করা হয়। তাঁরা এ অপহরণের সঙ্গে যুক্ত বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর ছিল। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লেদা রোহিঙ্গা শিবিরের পার্শ্ববর্তী পাহাড় অভিযান চালিয়ে তিন স্কুলছাত্রকে উদ্ধার করা হয়।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।