কক্সবাজার সৈকতে নারী ও শিশু পর্যটকের জন্য বিশেষ জোন বাতিল

নিউজ ডেস্ক : কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে নারীদের জন্য বিশেষ জোন তৈরি হলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যাপক বিরোধিতাসহ বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ায় তা বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন।

দেশজুড়ে নানা সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়ায় সৈকতের লাবণী পয়েন্টস্থ বিজিবি পরিচালিত উর্মি গেস্ট হাউস থেকে সিগাল পয়েন্ট পর্যন্ত ১৫০ ফুট এলাকা নিয়ে তৈরি এ জোন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বুধবার (২৯ ডিসম্বর) রাত ১০টায় এ জোন বাতিলের বিষয় নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মো. আবু সুফিয়ান।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানান, জেলা প্রশাসন পর্যটকদের মতামতের উপর সবসময় শ্রদ্ধাশীল। বিভিন্ন সময়ে পর্যটকদের মধ্যে অনেকে অনুরোধ করেছেন নারী ও শিশু পর্যটকের জন্য এক্সক্লুসিভ জোন থাকলে ভালো হয়। সেই বিবেচনায় বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে পৃথক এলাকা চিহ্নিত করে নারী ও শিশুদের জন্য এক্সক্লুসিভ জোন করার উদ্যোগ নেয়া হয়। এক্সক্লুসিভ জোনে যাদের ইচ্ছা হবে যাবে, অন্য পর্যটকরা তাদের ইচ্ছেমত ঘুরবেন।

তিনি বলেন, ‘এ সংক্রান্ত সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হয়। প্রচারিত সংবাদের প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনায় বিষয়টি নিয়ে বিরূপ মতামত পাওয়া গেছে। পর্যটকদের মতামতের উপর সমবসময় আমরা শ্রদ্ধাশীল। সুতরাং পর্যটকদের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে নারী ও শিশুদের জন্য এক্সক্লুসিভ জোন চালু রাখার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হলো।’

জেলা প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানায় সচেতন মহল। তারা বলছেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে আলাদা জোন হতে পারে না। দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা একে অপর থেকে আলাদা হয়ে কিংবা স্বামী থেকে স্ত্রী আলাদা হয়ে সমুদ্রস্নান করবে, এতে নিরাপত্তার চেয়ে অনিরাপত্তার আশঙ্কা ও ঝুঁকি বেশি থাকে।

বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে এ জোন উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন উদ্দিন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল আফসার উপস্থিত ছিলেন।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।