মা আমার থাকত বসে, পাতের হাড়ি গরম করে আগুনে

মানিক বৈরাগী

গহীন-শীতের রাতে এরশাদ-খালেদা বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে অনেক সময় রাতে আন্দোলনের কর্ম কৌশল নির্ধারণী বৈঠক হতো, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক,সাবেক পৌর প্রশাসক, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কারা নির্যাতিত জননেতা মরহুম এডভোকেট আমজাদ হোসেনের থানা রোড়স্থ বাসভবনে। অনেক সময় মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সংগঠক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতীয় কার্যকরি কমিটির সদস্য শ্রদ্ধেয় জননেতা এস কে শামসুল হুদার বাস ভবনে। আমরা এরশাদ খালেদা বিরোধি আন্দোলনের ছাত্রকর্মী ছিলাম। অনেকের সাথে আমারও ডাক পড়ত। সেই শীত রাত শেষ প্রান্তে সিকলঘাটা বাড়ী ফিরতাম আমি,নআবসার উদ্দিন মাহমুদ, ফয়সল চৌধুরীসহ অনেকে। এমনও সময় গেছে বাড়ি ফিরতে রাত ১-২টা পর্যন্ত বেজে যেত। সেই শীত রাতে আমাদের কাচারি ঘরে “মা আমার থাকত বসে পাতের হাড়ি,গরম করে আগুনে।”বাড়ি ফিরলে মা অন্যদের দেখে বলতো তুরা ছিলি ভালো করেছিস। ফয়সল সম্পর্কে আমার মামা হন,ফয়সল মাকে নানি বলে ভাইল দিয়ে বলত কি রান্না করেছেন আমাদের জন্য।ফয়সল হচ্ছে শাহ উমরাবাদ উচ্ছ বিদ্যালয়,চকরিয়া কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর ছেলে। আর আবছার কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও স্কুল শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর আব্দুল মালেক মাস্টার এর তৃতিয় সন্তান। মা আমাদের খাইয়ে তারপর ঘুমাতেন। মৃদু মন্দ বকা দিতেন। মাঝে মাঝে জিয়া ভাই ও থেকে যেতেন (জিয়া উদ্দিন চৌধুরী জিয়া-চেয়ারম্যান বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদ)। আজ আমার মায়ের ১৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী। মা যখন ইন্তেকাল করেন তখন আমি ফেরারি। নোয়াখালিতে থাকি মানিক মুখার্জি নাম ধারণ করে,মায়ের মৃত্যু সংবাদ পাই সেই নোয়াখালিতে। নোয়াখালি থেকে আসলাম জীবনের ঝুকি নিয়ে,কিন্তু পথে পুলিশ দাড়ানো,আমাদের বাড়ীর দুয়ারে পুলিশ দাঁড়ানো,ঠিক নির্মলেন্দু গুণের কবিতা হুলিয়ার মতো। ঘুর পথে এসে মাকে একপলক দেখে অশ্রু জলে মায়ের জানাজা না পড়ে ফিরে গেলাম। এই বেদনা ভার সহজে কেউ বুঝবে না,যার জীবনে এমোন ঘটনা ঘটেনি। আমাকে তখন বর্তমান যুবলীগ চকরিয়া উপজেলার সাধারন সম্পাদক কাউছার উদ্দিন কছির মোটর সাইকেলের মাঝখানে বসিয়ে বাইন্নার ছড়া থেকে গাড়ী তে তুলে দেয়।

আমি সেই ব্যার্থ সন্তান মায়ের জানাজা পর্যন্ত পড়তে দেয়নি, বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের পুলিশ। কথায় আছে রাখে আল্লাহ মারে কে, সেই সালাউদ্দিনও আজ ফেরারি হয়ে শিলংয়ে অবস্থান করছে। আর আমার বিরোদ্ধে যতধরেনের মামলা সাজিয়েছিল একদা আমার বাড়ীর লজিং মাস্টর,এলাকায় যাকে কাটিঙ্গয়ার পোয়া এনাম বলে ডাকে,সেই বিএনপির সভাপতি এনাম, এই এনাম আমার বন্ধু জাফর (চকরিয়া কলেজের প্রাক্তন ছাত্রলীগ নেতা) এর বাড়ী ঘর লুট করায়, বৃক্ষনিধন করায়। অসুস্থ জাফরের বাড়ী ভিটা দখলের উদ্যেশ্যে দখল উৎসব করেছিল। জাফর কে বহু মামলা দিয়ে হয়রানি করিয়েছিলো। সেই এনাম ও তার পাপের বাড়ীতে তার মাকে ঢুকাতে পারেনি,তার মায়ের স্বাভাবিক মৃত্যুর সময় পাশে থাকতে পারেনি। আল্লাহর বিচার কিছু ধিরে ধিরে,কিছু প্রকাশ্যে। সেই এনামও কক্সবাজার জেলা বিএনপির সম্মেলনে বিএনপির কর্মী দ্বারা প্রহৃত হয়েছিল। এপিএস সালাউদ্দিন তাকে পরে ছুড়ে ফেলে দিয়ে ছিলো। আল্লাহ এখনো শফি উল্লাহ শফির বিচার করে নি,তবে শফির পিতা ছিদ্দিক সওদাগর তার কোন অর্থ সহযোগিতা নেয় না বলে জেনেছি,তার ভাই বেলালের কাছ থেকে। তো যেসব বিএনপি ছাত্রদলের গুন্ডাদের কারণে আমি, আমার পরিবার নির্যাতিত হয়েছি শুধু ছাত্রলীগ করার অপরাধে,শেখ হাসিনার পক্ষে থাকার অপরাধে আল্লাহ স্বয়ং তাদের বিচার করছেন। আমিন।
দোয়া করি তাদের জন্য তারা যেনো হেদায়েত প্রাপ্ত হোন।আমিন। দোয়া করি আমার মাকে যেনো আল্লাহ বেহেশত নসিব করেন। আমিন।

মা তোমার পাগলা ছেলের জন্য দোয়া কর,আমিন।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।