বিশাল ব্যবধানে বাংলাদেশের জয়

ক্রীড়া ডেস্ক : আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় দিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলায় প্রথম টি-টোয়েন্টিতে লিটন দাসের ফিফটি আর আফিফের ২৫ রানে দেড়শ ছাড়ানো স্কোর পেয়েছিল মাহমুদউল্লাহর দল। বাকি কাজটা সারেন বোলাররা। নাসুম আহমেদ দ্রুত চার উইকেট তুলে নেওয়ার পর সাকিব-শরীফুলরা জ্বলে ওঠেন। বাংলাদেশ জয় পায় ৬১ রানে। ম্যাচসেরা হয়েছেন নাসুম আহমেদ আর লিটন দাস পেয়েছেন ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ এর পুরস্কার।

রান তাড়ায় নেমে নাসুম আহমেদের ঘূর্ণিতে মহাবিপদে পড়ে যায় আফগানিস্তান। দলীয় ১ রানে প্রথম উইকেটে হারানোর পর ৩ ওভারের মধ্যে তাদের স্কোর ৩ উইকেটে ৯ রান হয়ে যায়! প্রথম ওভারের চতুর্ত বলে রহমানুল্লাহ গুরবাজকে (০) ইয়াসির আলীর তালুবন্দি করে শুরু করেন নাসুম। ফিরতি ওভার করতে এসে প্রথম বলেই হজরতুল্লাহ জাজাইকে (৬) ফেরান। এক বল পরেই বোল্ড করে দেন দাউরিশ রসুলিকে (২)। বাংলাদেশের চতুর্থ সাফল্যও আসে নাসুমের ঘূর্ণিতে। ইনিংসের পঞ্চম ও নিজের তৃতীয় ওভারে এসে করিম জানাতকে (৬) ফেরান। ২০ রানে নেই ৪ উইকেট। পরের বলেই মোহাম্মদ নবিকে এলবিডাব্লিউ দিয়েছিলেন আম্পায়ার। তবে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান নবি। বল তার প্যাডে লাগার আগে ব্যাট ছুঁয়েছিল।

ম্যাচের এই পর্যায়ে জুটি বাঁধেন নবি আর নাজিবুল্লাহ জারদান। ৩৮ বলে ৩৭ রানের এই জুটি ভাঙেন সাকিব। তার বলে মোহাম্মদ নবি (১৬) ক্যাচ দেন আফিফের হাতে। ২৬ বলে ২৭ রান করা নাজিবুল্লাহও শিকার হন এই অল-রাউন্ডারের। ৬৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে যায় আফগানিস্তান। অতিথিদের সপ্তম উইকেটের পতন ঘটান শরীফুল। তার বলে রশিদ খানের (১) ক্যাচ নেন ইয়াসির। এরপর মঞ্চে আবির্ভাব মুস্তাফিজুর রহমানের। ১৮ বলে ২০ করা আজমতুল্লাহকে মাহমুদউল্লাহর তালুবন্দি করে নিজের প্রথম শিকার ধরেন। এরপর কায়েস আহামেদ আর (৮) মুজিব উর রহমাআনকে (৪) ফিরিয়ে ১৭.৪ ওভারে ৯৪ রানে আফগানদের প্যাকেট করে দেন শরীফুল। বাংলাদেশ পায় ৬১ রানের বড় জয়। ৪ ওভারে মাত্র ১০ রানে ৪ উইকেট নেন নাসুম। ২৯ রানে শরীফুল নেন ৩টি আর সাকিব ১৮ রানে নেন ২ উইকেট।

এর আগে আজ বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৫ রান তোলে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলায় টাইগারদের শুরুটা ভালো হয়নি। বাজে ফর্মে থাকা নাঈম যথারীতি ও্পেনিংয়ে নামেন। দলীয় ১০ রানে ৫ বলে ২ রান করে তিনি ফজলহক ফারুকীর শিকার হন। অপর ওপেনার মুনিম শাহরিয়ার যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তিনটি দারুণ বাউন্ডারি হাঁকান। তবে দ্রুতই ১৮ বলে ১৭ রান করা মুনিমকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন রশিদ খান। রিভিউ নিয়েও মুনিম বাঁচতে পারেননি। তিন নম্বরে নামা লিটন দাসের সঙ্গী হন সাকিব। লিটন আজও দুর্ধর্ষ ফর্মে ছিলেন। পাওয়ার প্লেতে আসে ৩৭ রান।

৮ম ওভারে কায়েস আহমেদকে সুইপ করতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে মুজিব উর রহমানের তালুবন্দি হন ৬ বলে ৫ রান করা সাকিব। দারুণ ব্যাট করতে থাকা লিটনের সঙ্গী হন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। নিজের মুখোমুখি চতুর্থ বলে হাঁকান ছক্কা। কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৭ বলে ১০ রান করে আজমতুল্লাহর বলে এলবিডাব্লিউ হয়ে যান। উইকেটে আসেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। রশিদ খানের করা ১৪তম ওভারে ৩৪ বলে ক্যারিয়ারের ৫ম ফিফটি তুলে নেন লিটন। আফগানদের বিপক্ষে এটা তার ২য় ফিফটি। ওই ওভারেই একশ ছাড়ায় বাংলাদেশের স্কোর। দারুণ জমে উঠেছিল লিটন-আফিফের জুটি।
অবশেষে ১৭তম ওভারে ফারুকীর বলে আজমতউল্লাহর তালুবন্দি হয়ে শেষ হয় লিটন দাসের ৪৪ বলে ৪ চার ২ ছক্কায় ৬০ রানের ইনিংস। এই ফরম্যাটে তার সর্বোচ্চ স্কোর ৬১ অক্ষুণ্ন থাকে। এর সঙ্গেই ভাঙে ৩৮ বলে ৪৬ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি। স্কোরবোর্ডে আর এক রান যোগ হতেই আফিফ হোসেনও ফিরেন আজামতউল্লাহর বলে মোহাম্মদ নবির তালুবন্দি হয়ে। তার সংগ্রহ ২৪ বলে ২ চারে ২৫ রান। শেষের দিকে কেউ ঝড় তুলতে পারেননি। রশিদ খানের করা শেষ ওভারে ৭ বলে ৮ রান করে রান-আউট হন ইয়াসির আলী। পঞ্চম বলে আবার রান-আউট মেহেদি হাসান (৭ বলে ৫)। শেষ বল খেলতে আসা শরীফুল বাউন্ডারি হাঁকালে নির্ধারিত ২০ ওভারে টাইগারদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ১৫৫ রান। আফগানদের বিপক্ষে এটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন ফারুকি আর আজমতউল্লাহ।

 

 

 

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।