স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়াকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’ নাটক সাজানোর অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক : কক্সবাজার আদালত পাড়া থেকে কোন নারীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের কোন ঘটনাই ঘটেনি। মূলতঃ কক্সবাজার পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার ‘ঝগড়া’র ঘটনাকেই পরদিন দেশের বিভিন্ন মিডিয়ায় ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’ ঘটনা বলে প্রচারিত হয়েছে। ‘ধর্ষণে’র এই ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।


মূলতঃ রুমা আকতার নামের ওই নারী প্রতিপক্ষ একটি গ্রুপের স্বার্থ হাসিলের জন্য ‘স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া’কে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে চারজন যুবককে ফাঁসানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।

ওই নারীর স্বামী ফিরোজ আহমদ নিজেই এমন দাবি করেছেন। তিনি মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, তার দ্বিতীয় স্ত্রী রুমা আকতারকে ধর্ষণের কোন ঘটনা ঘটেনি। বরং তার স্ত্রীই সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে কক্সবাজার পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে তাকে প্রকাশ্যে হেনস্থা করার চেষ্টা করেন। নিজের মান-সম্মানের কথা ভেবে প্রধান সড়ক থেকে নিজেকে সরিয়ে শহরের শহীদ সরণীতে এমপি আশেক উল্লাহ রফিকের বাড়ির সামনে চলে যান।
তার দাবি, রুনা আকতার সেখানেও তার শার্টের কলার ধরে টানাহেচড়া করে হেনস্থা করার চেষ্টা করেন। ওই সময় পথচারিরা তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন।

ফিরোজ আহমদ বলেন, আমার স্ত্রী রুনা আকতার যখন আমাকে হেনস্থা করতেই থাকে তখন আমি বাধ্য হয়ে তাকে নিয়ে পাশেই আমার মামা বাড়িতে ঢুকে পড়ি। ওই সময় আমার বয়োবৃদ্ধা মামী আমার স্ত্রীকে থামানোর চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার ওই ঘটনাকে রুনা আকতার প্রতিপক্ষের লোকজনের সাথে যোগসাজস করে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণে’র ঘটনা সাজিয়ে থানায় এজাহার দেন এবং সাংবাদিকদের মাধ্যমে এটিকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’ বলে চালানোর চেষ্টা করেন।

রুনা আকতারের স্বামী ফিরোজ আহমদ দাবি করেন, মামলায় দেয়া এজাহারে যে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে তাদের ‘ধর্ষণ মামলার আসামি’ বানানোর অপচেষ্টা করেছেন তাদের মধ্যে তিনজনের ঘটনার সাথে কোন সম্পর্কই নাই। বরং আসামি তালিকায় থাকা ইসলামপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাজার এলাকার মোহাম্মদ শরীফ আগামি নির্বাচনে একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী। তার ইমেজ নষ্ট করার জন্য পরিকল্পিত ভাবে তাকে আসামি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, নাম উল্লেখ থাকা অপর দুই আসামি আপন দুই ভাই রাসেল উদ্দিন ও নুরুল ইসলামও এই ঘটনার সাথে কোন ভাবেই সম্পৃক্ত নয়। বরং তারা ঘটনার সময় নিজেদের বাড়ি থেকে একটি বিয়ে অনুষ্টানে যাওয়ার জন্য বের হয়েছিলেন। পথিমধ্যে রাস্তায় আমাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার ঝগড়া দেখে আমাদের দুজনকেই সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। পরে তারা তাদের কাজে চলে যান। অথচ রুনা আকতারের এজাহারে তাদেরও ধর্ষক বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

ফিরোজ আহমদ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আসামি তালিকায় এবার বাকি থাকি আমি। এখন আপনারাই বলেন, আমার স্ত্রীকে আমি কেন ধর্ষণ করবো? ফিরোজ আহমদের দাবি, আমার প্রথম স্ত্রীর সাথে যোগাযোগের কারণে দ্বিতীয় স্ত্রী রুনা আকতার বারবারই সংসারে অশান্তি তৈরি করেন। এই কারণে দুই স্ত্রীকে দুই জায়গায় আলাদা ঘর করে দিয়েছি। তারা দুজন দুই ঘরে থাকেন। কিন্তু প্রথম স্ত্রীর কাছে গেলে দ্বিতীয় স্ত্রী রুনা আকতার এটা কোন ভাবেই মানতে পারেন না। এ নিয়ে আমাদের সংসারে অশান্তি লেগেই আছে।

তার মতে, সোমবার (১৪ মার্চ) সকালে পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে এসে দ্বিতীয় স্ত্রী রুনা আকতার আমার কাছে কোন কারণ ছাড়াই ১০ লাখ টাকা দাবি করে এবং আমাকে হেনস্থা করতে থাকে। পারিবারিক ঘটনা রাস্তায় এসে পড়াটাই মূলত ঘটনা। এখানে ধর্ষণের মতো কোন ঘটনাই ঘটেনি।

তিনি স্ত্রী রুনা আকতারের সাজানো ধর্ষণ ঘটনায় বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান জানান। রুনা আকতারের মিথ্যা ও বানোয়াট এজাহারে নাম উল্লেখ করা ব্যক্তিদের সম্মানহানি থেকে রক্ষার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।