সামরিক শক্তিতে ২ ধাপ পিছিয়েছে মিয়ানমার, ১১ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ 

রাইজিং কক্স ডেস্ক: সামরিক শক্তিতে ১১ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বের ১৩৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে ৪৫তম, যা গত বছর ছিল ৫৬তম।

সামরিক শক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার’র বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

এ র‌্যাংকিংয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক শক্তির দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া, চীন। প্রতিবেশী মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক শক্তির ব্যবধান কমেছে। ১ বছরে মিয়ানমান এ শক্তিতে ২ ধাপ পিছিয়ে এখন ৩৭তম।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার সক্ষমতার বয়সে পৌঁছায় ৩০৬০৫৭৩ জন। দেশের সামরিক বাহিনীর মোট সদস্য ১৬০০০০।

ছবি: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বিমান বাহিনীতে এ বছরের হিসাবে ১৭৫টি এয়ারক্র্যাফট রয়েছে। ১ বছরে বেড়েছে ২টি এয়ারক্র্যাফট। এছাড়া ৪৫টি ফাইটার এয়ারক্রাফট, ৪৫টি অ্যাটাক এয়ারক্রাফট, ৫৭টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে বাংলাদেশের। হেলিকপ্টার রয়েছে ৫৯টি। তবে একটিও অ্যাটাক হেলিকপ্টার নেই।

সেনাবাহিনীর কাছে রয়েছে ৩৪০টি কমব্যাট ট্যাংক। ৫২১টি সাঁজোয়া যান, ১৮টি সেলফ-প্রপেলড আর্টিলারি, ৩৪০টি টোড আর্টিলারি, ৩৬টি রকেট প্রজেক্টর। টোড আর্টিলারির দিক থেকে বাংলাদেশের র‌্যাংকিং ১৩৭ দেশের মধ্যে ৩২তম।

নৌবাহিনীর শক্তিমত্তায় দেখা গেছে বাংলাদেশের মোট নৌ সরঞ্জাম ৮৯টি। যার মধ্যে ৬টি ফ্রিগেট, ৬টি করবেট ও ২টি সাবমেরিন রয়েছে। বাংলাদেশের কোনো বিমানবাহী রণতরী নেই। প্যাট্রোল ভেসেল রয়েছে ২৬টি আর মাইন ওয়ারফেয়ার ৪টি।

৫৫টি মাপকাঠির ভিত্তিতে এই সামরিক শক্তিমত্তার সূচকে স্কোর দেওয়া হয়েছে। ০.০৬১৫ শক্তিসূচক নিয়ে প্রথম যুক্তরাষ্ট্র। ০.০৬৩৯ শক্তিসূচক নিয়ে দ্বিতীয় রাশিয়া। আর তৃতীয় চীনের শক্তিসূচক ০.০৬৭৩। ভারত ০.১০৬৫ শক্তিসূচক নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সামরিক শক্তিতে বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থানে। বাংলাদেশ ০.৭১৫৬ শক্তিসূচক নিয়ে ৪৫তম অবস্থানে রয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে ১১টি দেশকে পিছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। ২০১৮ সালে র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৫৬তম। এই অঞ্চলে দ্বিতীয় পাকিস্তান ০.২৭৯৮ শক্তিসূচক নিয়ে। সার্বিক র‌্যাংকিংয়ে যার অবস্থান ১৫তম।

গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার- জিএফপি তার প্রতিবেদনে জানিয়েছে এই শক্তির জরিপে কোনো দেশের পরমাণু শক্তির বিষয়টি ধর্তব্যে নেওয়া হয়নি। তবে স্বীকৃত ও সন্দেহভাজন পরমাণু শক্তিধর দেশগুলোকে বিশেষ বিবেচনায় রাখা হয়েছে। সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি এই জরিপে প্রাধান্য পেয়েছে ভৌগলিক অবস্থান, প্রাকৃতিক সম্পদ, জনসংখ্যার দিকগুলো। এছাড়া দেশগুলোর সামরিক সরঞ্জাম কতটা বৈচিত্র্যপূর্ণ, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

রাইজিংকক্স.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।